এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব এবং অর্থনীতিবিদ প্রভাকর পারকালা। মূলত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির দোহাই দিয়ে যেভাবে গণহারে ভোটার ছাঁটাই করা হয়েছে, তারই প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়।

প্রভাকর পারকালা এবং নির্মলা সীতারমন
শেষ আপডেট: 12 April 2026 18:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) আগে পশ্চিমবঙ্গের আকাশ-বাতাসে এখন ‘এসআইআর’ (West Bengal SIR) আতঙ্ক। প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে মুছে যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে এখন তোলপাড়। শাসক দল তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন যোগসাজশ করে পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে। সবথেকে বড় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ (SIR Logical Discrepency)। আর এই ইস্যুতেই এবার সরব হলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ তথা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনের স্বামী প্রভাকর পারকালা। রবিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ জানালেন, “বাংলায় অনেক ভয়ঙ্কর জিনিস ঘটছে!”
এদিন ‘এডুকেশনিস্ট ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদব এবং অর্থনীতিবিদ প্রভাকর পারকালা। মূলত লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির দোহাই দিয়ে যেভাবে গণহারে ভোটার ছাঁটাই করা হয়েছে, তারই প্রতিবাদে এই সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রভাকর সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
প্রভাকরের মতে, বর্তমানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি বাংলা এবং তামিলনাড়ু দুই রাজ্যেই গিয়েছি। আজ পশ্চিমবঙ্গে যা দেখছি তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এখন সরকার ঠিক করে দিচ্ছে কে ভোট দেবে আর কে দেবে না। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড়জোর হাজার দুয়েক নাম বাদ যেতে পারে, কিন্তু সেই সংখ্যাটা কখনওই লক্ষের ঘরে পৌঁছাতে পারে না।” তাঁর এই মন্তব্য যে সরাসরি কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধেই তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
উল্লেখ্য, কেবল পশ্চিমবঙ্গ নয়, এর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছিলেন নির্মলার স্বামী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রে গত নির্বাচনে মোট ভোটের প্রায় ৪.১৬ শতাংশ পড়েছিল ১৩ মে রাত পৌনে ১২টা থেকে ১৪ মে রাত ২টোর মধ্যে! অর্থাৎ যখন গোটা দেশ ঘুমে আচ্ছন্ন, তখন অন্ধ্রের বুথগুলিতে ঝোড়ো গতিতে ভোট পড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ওইদিন রাত ৮টা থেকে রাত ২টোর মধ্যে প্রায় ৫২ লক্ষ ভোট রেকর্ড করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৭ লক্ষ ভোটই পড়েছিল মধ্যরাতের পর।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি তিনি তুলেছেন ‘ভোটদানের গতি’ বা ‘ভোটিং স্পিড’ নিয়ে। প্রভাকরের দাবি, অন্ধ্রে অনেক জায়গায় গড়ে প্রতি ২০ সেকেন্ডে একটি করে ভোট পড়েছে। এমনকি কোথাও কোথাও মাত্র ৬ সেকেন্ডে একটি ভোট পড়ার তথ্যও মিলেছে, যা কার্যত অসম্ভব।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ছাব্বিশের বাংলার ভোটেও কি একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটবে? আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা এবং ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ। তার আগে ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়া এবং ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’র ধোঁয়াশা সাধারণ মানুষের মনে গভীর আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে। প্রভাকর পারকালার মতো ব্যক্তিত্বের এই সমালোচনা সেই বিতর্কের আগুনে যেন নতুন করে ঘি ঢালল। বাংলার ভোট উৎসব কি সত্যিই অবাধ ও স্বচ্ছ হবে, নাকি অন্ধ্রের ছায়া দেখা যাবে এ রাজ্যেও - এখন সেটাই সবথেকে বড় প্রশ্ন।