মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে লাগাতার শ্লীলতাহানি ও বাবাকে খুনের হুমকির জেরে আত্মঘাতী দশম শ্রেণির কিশোরী। পরিবারের অভিযোগ, এলাকার যুবকের ভয় ও চাপ সহ্য করতে না পেরেই এই মর্মান্তিক সিদ্ধান্ত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 8 February 2026 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়িতে ঢুকে শ্লীলতাহানি (Molestation) থেকে বাবাকে খুনের হুমকি (Death Threat)। ভয়, চাপ আর আতঙ্কে প্রথমে বিষ (Poison) খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা, তার পরে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে আবার গলায় দড়ি কিশোরীর। ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকা। পরিবারের অভিযোগ, এলাকারই এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে মেয়েটিকে ভয় দেখাত ও উত্ত্যক্ত (Harassment) করত। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি চেয়েছেন মৃতার বাবা।
ওই কিশোরী খুবই চাপা স্বভাবের ছিল। কোনওদিনই কাউকে কিছু বলেনি। তার বাবা বলেন, “ওই যুবক যে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত, জানতামই না। মেয়ে কখনও বলেনি।” দিন পাঁচেক আগে ঘটনাটা প্রথম জানা যায়। সেদিন বাড়িতে কেউ ছিল না। বাড়ি ঢোকার সময় গোয়ালঘরের সামনে মেয়ের চিৎকার শুনতে পান তিনি। সেখানে পৌঁছতেই অভিযুক্ত যুবক দৌড়ে পালায়। ভয় আর চাপের মধ্যে কিশোরী সেদিনই সব জানান বাড়িতে।
কিশোরীর অভিযোগ, গত ছ’মাস ধরে অভিযুক্ত যুবক তাকে মেলামেশা (Relationship Pressure) করতে বলত। মেয়ে রাজি না হলে হুমকি দিত, “তোর বাবা মাঠে কাজে যায়, কুপিয়ে খুন করে রেখে আসব।” বাবাকে খুন করার এই হুমকিতে আরও ভেঙে পড়ে সে। ওই ভয়েই এতদিন কিছু বলেনি।
পাঁচদিন আগের ওই ঘটনার পর কিশোরী বিষ খায়। পরিবারের লোকজন বিষয়টা বুঝে দ্রুত হাসপাতালে (Hospital) নিয়ে যান। সেখানে তিনদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেরী। কিন্তু আতঙ্ক কাটেনি। মৃতার বাবা বলেন, “আমি মেয়েকে অনেক বোঝাই। কিন্তু গতকাল ও আমাকে দু’টো পেন আনতে বলে। আমি দোকানে যাই, ওর মা কাজে ব্যস্ত ছিল। সেই সময়েই গলায় দড়ি দেয়।”
কথা বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বারবার বলতে থাকেন, “মেয়ে আগে বললে আমি ওই ছেলেটার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে থানায় (Police Station) অভিযোগ করতাম। আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে—একমাত্র মেয়েকে কেড়ে নিল। আমি ওর কঠোর শাস্তি চাই।”
পরিবার জানিয়েছে, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে থানা অভিযোগ (FIR) দায়ের করা হবে। স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন, মেয়েটির মৃত্যুর তদন্তে যেন কোনও গাফিলতি না হয়।