আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের সরকারি স্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদান করলেও এই স্কিমে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি স্বীকৃতি পাননি।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 21 January 2026 19:28
দেবাশিস গুছাইত, হাওড়া: সরকারি স্বীকৃতি চেয়ে আন্দোলনে এনএসকিউএফ (National Skills Qualification Framework) প্রকল্পের আওতায় কর্মরত কারিগরি শিক্ষক-শিক্ষিকারা। ‘এজেন্সি হটাও, সরকারি স্বীকৃতি দাও’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার নবান্নের কাছে মন্দিরতলায় অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হলেন শনিবার রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষক-শিক্ষিকারা। প্রায় ১২ ঘণ্টার এই অবস্থান বিক্ষোভে অংশ নেন তাঁরা।
‘ইউনাইটেড ডব্লিউবি এনএসকিউএফ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন’-এর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজ্যের সরকারি স্কুলে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদান করলেও এই স্কিমে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকারা এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি স্বীকৃতি পাননি।
তাঁদের আরও অভিযোগ, নবম ও দশম শ্রেণিতে এনএসকিউএফ-এর বিষয়গুলি অতিরিক্ত বিষয় হিসেবে থাকলেও উচ্চমাধ্যমিকে সেগুলি মূল কোর্সের অন্তর্ভুক্ত। অথচ এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানো সত্ত্বেও শিক্ষকরা সরকারি নিয়ন্ত্রণের আওতায় নেই। বরং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে তাঁদের নিয়োগ করা হয়। আর সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে ওই এজেন্সিগুলি নিজেদের মতো করে কাজ করায় এবং প্রায়শই শিক্ষকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, গত প্রায় ১২ বছরে তাঁদের কোনও বেতন বৃদ্ধি হয়নি। নেই ভবিষ্যৎ সুরক্ষাও। এমনকী গত প্রায় ছয় মাস ধরে বেতন পাননি বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা। এই পরিস্থিতিতে বকেয়া বেতন অবিলম্বে মেটানো, স্থায়ী শিক্ষক হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি প্রদান এবং সরকারি নিয়মনীতির আওতায় এনে ভবিষ্যৎ সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিতেই এই অবস্থান বিক্ষোভ বলে জানান তাঁরা।
সংগঠনের সভাপতি নিরূপম কোলে বলেন, “আমরা ১০ দিনের জন্য ধর্নার অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু মাত্র ১২ ঘণ্টার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্তত সচিব স্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার আশায় নবান্নে গেলেও কারও সঙ্গে দেখা হয়নি।” তবে আগামী দিনে নবান্নের কোনও শীর্ষ আধিকারিকের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি মিলবে বলেও তাঁরা আশাবাদী।
এদিকে এদিন অবস্থান বিক্ষোভ চলাকালীন এক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে বলেও জানান আন্দোলনরত শিক্ষকরা।