"কে সুবিধা পেয়েছে, কে পায়নি সেটা বিচার্য নয়। আমরা দুর্নীতি দেখলে পদক্ষেপ নেব।" -হাইকোর্ট।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 July 2025 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিকের ৩২ হাজার নিয়োগ বাতিল মামলায় (Primary School Recruitment Cancellation 32,000) বৃহস্পতিবার কড়া পর্যবেক্ষণ সামনে আনল কলকাতা হাইকোর্ট ( Calcutta High Court)।
হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে— "কে সুবিধা পেয়েছে, কে পায়নি সেটা বিচার্য নয়। আমরা দুর্নীতি দেখলে পদক্ষেপ নেব।"
এদিন মামলার শুনানিতে শিক্ষকদের একাংশের আইনজীবী অনিন্দ্য মিত্র বলেন, “স্পাইরাল বাইন্ডিং সংক্রান্ত তথ্য কীভাবে গ্রহণযোগ্যতা পেল? বোর্ড তো কোনও বাধা দেয়নি। ২০১৪ সালের টেট, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০১৬ সালে। ওএমআর শিট মূল্যায়নের দায়িত্ব ছিল এসবিএসই রায় সংস্থার হাতে। দুর্নীতি হলে, সেটা তো টেট সংক্রান্ত। নিয়োগ প্রক্রিয়ার নয়।”
এরপরই বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “দুটোই তো একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত। একটিতে দুর্নীতি হলে সেটির প্রভাব নিয়োগেও পড়তে বাধ্য।”
সওয়ালে অনিন্দ্য মিত্র আরও বলেন, “যত শূন্যপদ ছিল, তার থেকেও বেশি নিয়োগ হয়েছে ঠিকই। কিন্তু তাই বলে আমরা নিয়োগ খারিজের পক্ষপাতী নই। তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গ্রেফতার হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেটা নিয়োগ নয়, দুর্নীতির জন্য। আর একক বেঞ্চের নির্দেশে যদি সকলের নিয়োগই বাতিল হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠে ন্যায়বিচার নিয়ে। সকলের ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয়েছে— এটা আদালত কীভাবে ধরে নিচ্ছে?”
যার প্রত্যুত্তরে বিচারপতির কড়া জবাব— “আমরা দেখব কে দুর্নীতির সুবিধা পেয়েছে। কে পায়নি সেটা খতিয়ে দেখা হবে না। দুর্নীতি দেখলেই আমরা ব্যবস্থা নেব।”
আইনজীবীর দাবি, আবেদনকারীদের মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে অনেক সময়েই নিয়োগের মডিফিকেশন হয়েছে। তা নিয়েও আদালতের প্রশ্ন— মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে কিভাবে প্রক্রিয়া বদলানো হয়?
নিয়োগ বাতিল মামলায় যে আরও জটিলতা বাড়তে চলেছে এবং নিয়োগপত্র পাওয়া বহু শিক্ষকের ভবিষ্যত অনিশ্চয়তার মুখে— তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে প্রতিটি শুনানিতে। ৭ জুলাই এই মামলার পরবর্তী পর্বে কী সিদ্ধান্ত আসে, তার দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।