শীর্ষ আদালত গত ১৬ মে নির্দেশ দিয়েছিল, ছয় সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে ২৭ জুন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 4 July 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ অমান্য করায় ফের আদালতের দোরগোড়ায় পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা। আদালতের নির্দেশের পরও রাজ্য বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) না মেটানোয় এবার সরাসরি আদালত অবমাননার মামলা (Contempt of court ) দায়ের করল ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ওয়েস্ট বেঙ্গল’।
শীর্ষ আদালত গত ১৬ মে নির্দেশ দিয়েছিল, ছয় সপ্তাহের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে ২৭ জুন। কিন্তু কর্মীদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত একটি টাকাও হাতে পাননি তাঁরা। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সময়সীমা পেরানোর আগেই সুপ্রিমকোর্টে রাজ্যর আর্জি ছিল, বকেয়া ডিএ মেটানোর জন্য আরও ছ'মাস সময় দেওয়া হোক। রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়, বকেয়া ডিএ দিতে হলে রাজ্যের আর্থিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। তাদের দাবি, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার দায়ভার বর্তাবে রাজ্যের উপর। একাংশ কর্মচারীদের ২৫ শতাংশ ডিএ মেটাতে গেলেও ১০ হাজার কোটির বেশি অর্থের প্রয়োজন, যা ২০২৫-২৬ বাজেটে ধরা হয়নি। ফলে ঋণ ছাড়া উপায় নেই, আর কেন্দ্রীয় অনুমতি ছাড়া সে ঋণ নেওয়া সম্ভব নয়।
রাজ্যের যুক্তি, ডিএ কোনও মৌলিক অধিকার নয়, বরং তা 'ঐচ্ছিক'। কেন্দ্রের হারে ডিএ দেওয়ারও কোনও দায় নেই রাজ্যের, কারণ কেন্দ্র-রাজ্যের আর্থিক কাঠামো এক নয়। রাজ্য ‘রোপা ২০০৯’ অনুযায়ী নিজস্ব নিয়মে ডিএ দেয়।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ দ্য ওয়ালকে বলেন, "রাজ্য সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছে। তাই আদালত অবমাননার নোটিস ধরানো হল। আর আদালতে রাজ্যের আবেদন ধোপে টিকবে না। কারণ, ডিএ যে আইন স্বীকৃত সেটা সুপ্রিমকোর্ট মেনে নিয়েছে। কিন্তু ডিএ সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার কিনা সেটা পরবর্তী শুনানিতে আদালত জানাতে পারে। তাই ৪ অগস্ট মামলার পরবর্তী শুনানির আমরা নজর রাখছি।
ভাস্করবাবুর মতে, ডিএ সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার, আদালত একথাকে স্বীকৃতি দিলে শুধু বাংলা নয়, সারা দেশের সরকারি কর্মচারীদের জন্য নয়া নিয়ম লাগু হয়ে যাবে।
সরকারি কর্মচারীদের তরফে এই প্রশ্নও তোলা হচ্ছে যে যখন অযোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বেতন ফেরত নিতে দেরি করছে সরকার, তখন আর্থিক সঙ্কট দেখিয়ে প্রকৃত কর্মীদের প্রাপ্য আটকে রাখা কি ন্যায়সঙ্গত? এই দ্বিচারিতার প্রশ্নেই পরবর্তী শুনানিতে রাজ্যের চাপ বাড়ানোর কৌশল নিচ্ছেন সরকারি কর্মচারীরা। পাল্টা হিসেবে রাজ্যই বা আদালতে কী বলে, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে সব মহলে।