শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই হেল্পলাইন বাস্তবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর হাতিয়ার। তাঁর দাবি, “ভূ-ভারতের কোনও প্রান্তে হিন্দু বাঙালি বা হিন্দু শরণার্থীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। বরং পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু বাঙালিরাই পুলিশি হেনস্থার শিকার।”

শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 26 July 2025 11:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিযায়ী শ্রমিকদের সহায়তায় রাজ্য পুলিশের নতুন হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন (West Bengal Police helpline) ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। পুলিশের উদ্যোগের পাল্টা ইমেল আইডি দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় ইমেল আইডি প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের এই উদ্যোগ আসলে "রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত"।
রাজ্য পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে প্রতারণা, বকেয়া মজুরি না পাওয়া বা নিগ্রহের মুখে পড়া পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে সাহায্য করতেই চালু হয়েছে নতুন হেল্পলাইন নম্বর— ৯১৪৭৭২৭৬৬৬। এই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে নাম, ঠিকানা ও সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ পাঠালে রাজ্য পুলিশ প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেবে।
তবে শুভেন্দু অধিকারীর মতে, এই হেল্পলাইন বাস্তবে বিভ্রান্তি ছড়ানোর হাতিয়ার। তাঁর দাবি, “ভূ-ভারতের কোনও প্রান্তে হিন্দু বাঙালি বা হিন্দু শরণার্থীরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না। বরং পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু বাঙালিরাই পুলিশি হেনস্থার শিকার।”
এই পোষ্টটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মসূত্রে বসবাসকারী বাঙালিদের বিভ্রান্ত করতে এই পোস্ট করা হয়েছে, যাতে তাঁরা বিচলিত হয়ে পড়েন। পুরো ভূ-ভারতে ভারতীয় বাঙালিরা ও হিন্দু শরণার্থীরা কোন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন না।
তবে পশ্চিমবঙ্গে… https://t.co/8t7D1Bzx7P— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 25, 2025
তিনি আরও লেখেন, “যাঁরা পশ্চিমবঙ্গে পুলিশি হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, তাঁরা আমাকে ইমেল করতে পারেন। আমি তাঁদের পাশে থাকব।” তাঁর প্রকাশিত ইমেল আইডি— adhikarisuvenduwb1@gmail.com
শুধু তাই নয়, তাঁর আরও আহ্বান, “পশ্চিমবঙ্গের কোনও সচেতন নাগরিক যদি রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি মুসলমানদের খোঁজ পান, তাহলে সেই তথ্যও ইমেলে পাঠানোর অনুরোধ করছি। আমি সেই তথ্য সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেব।”
এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছড়িয়েছে। শাসক দলের একাংশের মতে, শুভেন্দুর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের গন্ধ স্পষ্ট। অন্যদিকে, বিরোধীপক্ষ পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।