
শেষ আপডেট: 19 February 2024 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আধার কার্ড দিয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবির পরেই ক্ষত মেরামতে আসরে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার এক এক্সবার্তায় শুভেন্দুর দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব তাঁকে কথা দিয়েছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্ক্রিয় করা সমস্ত আধার কার্ড সক্রিয় করে দেওয়া হবে। শুভেন্দুর আরও দাবি, আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় করার সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে জানিয়েছেন। তিনি দুজনের সঙ্গেই কথা বলেছেন। অশ্বিনী বৈষ্ণবকে আলাদা করে চিঠিও লিখেছেন।
কেন্দ্রীয় জাহাজমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কয়েকদিন আগে দাবি করেছিলেন, ভোটের আগেই চালু হবে সিএএ বা সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন। আর তা নিয়ে তৃণমূল শিবির এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলা সফরে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বিজেপির মতলব নিয়ে সতর্ক করে দিতে থাকেন। কিন্তু, রবিবার সিউড়িতে গিয়ে এক সভায় মমতা মারাত্মক অভিযোগ তুলে বলেন, একাধিক জেলায় অনেকের আধার কার্ডের লিঙ্ক কেটে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে রাজ্য সরকারের সুবিধা-বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এটা করা হচ্ছে। বর্ধমানের জামালপুর সহ বীরভূম, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তরবঙ্গেও একাজ চলছে।
মমতার এই দাবি বা অভিযোগ নিয়ে তুমুল জলঘোলা হতে শুরু করে। স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য বিজেপি চরম অস্বস্তিতে পড়ে। আর তার পরেই এদিন সকালে মলম লাগাতে নেমে পড়েন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এক্সবার্তায় লেখেন, রাঁচির আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে যে এরকমটা করা হয়েছে, তা উচ্চপর্যায়ের আধিকারিক এবং মন্ত্রকের কেউ জানতেন না। কাটা ঘায়ের উপর রাজনৈতিক প্রলেপ লাগাতে শুভেন্দু লিখেছেন, ভোটের আগে বিজেপিকে কালিমালিপ্ত করতে কোনও চক্রান্ত করা হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত হবে।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু জাহাজমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। কারণ, মমতার এই ঘোষণার পরেই মতুয়া সমাজের মধ্যে তুমুল আলোড়ন পড়ে গিয়েছিল। লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি অস্বস্তিতে পড়ে যায়। তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি তুলে না ধরলে আধার কার্ড ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হচ্ছে, তা যেন বিজেপির নেতারা জানতেনই না। ওঁরা তো মানতেই চাইছিলেন না। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই আজ শুভেন্দু ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদারের মতো বিজেপি নেতারা আধার নিষ্ক্রিয় করার সত্যতা আক্ষরিক অর্থে মেনে নিয়েছেন। ফলে সহজেই বোঝা যায়, বিজেপির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী!