ওই ফাইলে আসলে কী ছিল? আর ইডির অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী কি আদৌ এ ভাবে ঢুকে পড়ে কিছু নিয়ে যেতে পারেন, এই দুই প্রশ্ন ঘিরেই চর্চা তুঙ্গে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকাও নিয়ে, কেন বাধা দেওয়া হল না?
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 January 2026 16:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইডির তল্লাশির মাঝেই প্রতীক জৈনের (I PAC) বাড়ি থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Chief Minister Mamata Banerjee) সবুজ ফাইল হাতে (Green File controversy) বেরোতে দেখা যাওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার ঝড়। ওই ফাইলে আসলে কী ছিল? আর ইডির অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী কি আদৌ এ ভাবে ঢুকে পড়ে কিছু নিয়ে যেতে পারেন, এই দুই প্রশ্ন ঘিরেই চর্চা তুঙ্গে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকাও নিয়ে, কেন বাধা দেওয়া হল না?
এই জল্পনার মধ্যেই শুক্রবার নতুন ব্যাখ্যা দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী আসলে কিছু নিয়ে যেতে পারেননি। শুভেন্দুর কথায়, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিছু নিয়ে যেতে পারেননি। উনি ক্যান্ডিডেটদের প্রোপোজাল লিস্টটা নিয়ে গিয়েছিলেন। সেটার কপি অনেকের কাছেই রয়েছে। ল্যাপটপ নিয়ে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার ভিতরে কী আছে কেউ জানে না। পুরোটা বোকার মতো কাজ।”
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুভেন্দু বোঝাতে চাইছেন—ইডির তদন্তে মুখ্যমন্ত্রী কার্যত কোনও প্রভাব ফেলতে পারেননি। বরং নিজেই একটি প্রার্থী তালিকা সঙ্গে করে বেরিয়ে এসেছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, ইডির সামনে থেকে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ফাইল হাতে বেরোলেন, তাতে তদন্তকারী সংস্থাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণা যাতে না তৈরি হয়, সে কারণেই বিরোধী শিবির তুলনামূলক ‘হালকা’ প্রতিক্রিয়া দিচ্ছে।
তবে সবুজ ফাইলের ভিতরে কী ছিল, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, প্রতীক জৈনের বাড়িতে তৃণমূলের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা রাখা ছিল। বিজেপি নাকি ইডিকে ব্যবহার করে সেই তালিকা ও দলের ভোট-কৌশল হাতানোর চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই তিনি অভিযান চলাকালীন ওই নথি সেখান থেকে বের করে আনেন—এমনটাই দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বাস্তবে ওই ফাইলে আদৌ কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল কি না, তা কেউ দেখেনি। তাঁদের যুক্তি—হতে পারে সেখানে কয়েকটি সাদা কাগজই ছিল। ইডির আধিকারিকদের কাছ থেকেই সবুজ ফাইল নিয়ে তাতে কাগজ ভরে বেরিয়ে আসা হয়েছে—বাইরে থেকে দেখে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
তবে এটাও সত্যি, তৃণমূলের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোয় আইপ্যাক কার্যত ‘শিরদাঁড়া’। ফলে ভোটের মুখে বিজেপি ইডিকে কাজে লাগিয়ে তৃণমূলের স্ট্র্যাটেজি হাতানোর চেষ্টা করেছে—মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে রাজনৈতিক মহলের একাংশ পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না।
অন্য দিকে, ইডি কেন মুখ্যমন্ত্রীকে বাধা দিল না—এই প্রশ্নে শুভেন্দুর ব্যাখ্যাও কম বিতর্কিত নয়। তাঁর দাবি, বাধা দিলে সন্দেশখালির মতো রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাহিনী নিয়ে ইডি কেন অভিযান চালাল না—এই প্রশ্নও উঠছে। সব মিলিয়ে ‘সবুজ ফাইল’ রহস্য ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর যে এখনই থামছে না, তা স্পষ্ট।