একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীকে বাধা দিলে ইডি আধিকারিকদের পরিণতি ‘সন্দেশখালির মতো রক্তাক্ত’ হতে পারত।

শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 9 January 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপ্যাকের দফতর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain, IPAC ) বাড়িতে ইডির তল্লাশি (ED) ঘিরে বঙ্গ রাজনীতির ঝড় আরও তীব্র হল। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর অফিসারদের মামলায় যুক্ত করার বিষয়েও এদিন আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইডি। শুক্রবার দুপুরে মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
ইডির এই পদক্ষেপকে 'সঠিক সিদ্ধান্ত' আখ্যা দিয়ে এদিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলার মানুষ দেখতে চেয়েছিলেন, এত বড় ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রীকে ভয় পেয়ে ইডি কি গর্তে ঢুকে যাবে নাকি না কি সংবিধান অনুযায়ী কাজ করবে? আমি অত্যন্ত খুশি, তাঁরা আজকে আইপ্যাক কাণ্ডে মুখ্যমন্ত্রীকে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তাদের যুক্ত করার আবেদন জানিয়েছেন। ইডির এই পদক্ষেপ যথাযথ। বাংলার মানুষ কঠিন পদক্ষেপ চায়।"
একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীকে বাধা দিলে ইডি আধিকারিকদের পরিণতি ‘সন্দেশখালির মতো রক্তাক্ত’ হতে পারত।
প্রসঙ্গত, আইপ্যাকের দফতর এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশির সময় কী ভাবে ‘বাধা’ দেওয়া হয়েছিল? ইডির কাছে জানতে চেয়েছে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
বৃহস্পতিবার সকালে ইডির অভিযান শুরুর খবর পেয়ে প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার। কিছু সময় পর মুখ্যমন্ত্রীকে একটি সবুজ ফাইল হাতে বেরোতে দেখা যায়, এই দৃশ্যই নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, ইডির তদন্তস্থল থেকে এভাবে কোনও তথ্য নিয়ে কেউ বেরোতে পারে কিনা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) প্রথম থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবারই হাইকোর্টে মামলা করেছিল ইডি। ওই মামলায় মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর অফিসারদের যুক্ত করার জন্য শুক্রবার নতুন করে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইডি।
শুভেন্দুর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ অনৈতিক ও অসাংবিধানিক। রাজীব কুমারের সময়েও এমন হয়েছিল, ফিরহাদ হাকিমদের সময়েও হয়েছিল। এটা ওনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ তোলেন, রাজ্যের পুলিশ ও মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীকে অপব্যবহার করা হয়েছে। রাজীব কুমার সারদা মামলায় অভিযুক্ত এবং মুকেশ কুমার মুর্শিদাবাদের গরু পাচার মামলায় জড়িত, সে কারণেই তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর অনৈতিক কাজে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কটাক্ষের সুরে এও বলেন, "তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীদের বাড়িতে ইডি অভিযান হলে মুখ্যমন্ত্রী যান না, এক্ষেত্রে প্রতীকের বাড়িতে দৌড়ে গিয়েছেন, কারণ যেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিজে ফেঁসে যান, সেখানেই উনি দৌড়ে যান।
এ প্রসঙ্গে জলজীবন মিশনের প্রসঙ্গও টেনেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কেন্দ্রের দেওয়া ৮ হাজার কোটি টাকা রাজ্যে ‘চুরি’ হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় জলজীবন মিশনের ১৭৮ কোটি টাকা আইপ্যাকের অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার হয়েছিল। চেক নম্বর-সহ নথি তিনি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। শুভেন্দুর কটাক্ষ, “এবার বুঝতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যথাটা কোথায়? কেন তিনি তড়িঘড়ি প্রতীকের বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন।”
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে বিজেপি ইডিকে দিয়ে তৃণমূলের ইলেকশন স্ট্র্যাটেজি চুরির করার জন্যই আইপ্যাকে তল্লাশি চালানো হয়েছে। এ ব্যাপারে ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশে মামলা দায়ের করেছে আইপ্যাক ও তৃণমূল। মামলা হয়েছে হাইকোর্টেও।
ফলে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগের আবহে শুক্রবার দুপুরে আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলায় হাইকোর্টের শুনানিতে কী হয়, সেদিকেই এখন রাজ্য রাজনীতির সব নজর।