সোমবারের সভা থেকে আরও বিভিন্ন রকম জিহাদের উদাহরণ টানেন বিরোধী দলনেতা। তার মধ্যে অন্যতম, ধর্ম জিহাদ, খাদ্য জিহাদ। তাঁর কথায়, তৃণমূল আদতে কোনও দলই নয়। এমন কথা বলে ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন তিনি?

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 24 November 2025 17:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুর্নীতি, নারী সুরক্ষা, অনুপ্রবেশকারী এবং এসআইআর (SIR) ইস্যুতে ফের একবার রাজ্য সরকার তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) বিঁধলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর কথায়, তৃণমূল আদতে কোনও দলই নয়। এমন কথা বলে ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন তিনি?
মথুরাপুরে (Mathurapur) বিজেপির সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই সভামঞ্চ থেকেই তিনি বলেন, এক সময় তৃণমূল দলকে ছুড়ে ফেলে এসেছেন তিনি। এটা কোনও দলই নয়! শুভেন্দুর কথায়, ''আমি যদি সেদিন নন্দীগ্রামের মানুষকে নিয়ে লড়াই না করতাম তাহলে দিদি থেকে দিদিমা হয়ে যেতেন। মুখ্যমন্ত্রী হতে হত না।'' স্পষ্টত এই মন্তব্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) নিশানা করেছেন তিনি।
এর আগে 'ল্যান্ড জিহাদ' (Land Jihad) নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু। দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের মদতে অনুপ্রবেশকারী (Bangladeshi Infiltrator), রোহিঙ্গারা (Rohingya) ঢুকে জনজাতিদের জমি দখল করে নিচ্ছে। এটাই ল্যান্ড জিহাদ! সোমবারের সভা থেকে আরও বিভিন্ন রকম জিহাদের উদাহরণ টানেন বিরোধী দলনেতা। তার মধ্যে অন্যতম, ধর্ম জিহাদ, খাদ্য জিহাদ।
শুভেন্দুর কথায়, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গারা ঢুকে ন্যায্যদের রেশন ছিনিয়ে নিচ্ছে। এটাই খাদ্য জিহাদ (Food Jihad)। তারা পরপর জমি দখল করে নিচ্ছে, ল্যান্ড জিহাদ। বিধায়কের বক্তব্য, এইভাবে চলতে থাকলে গোটা রাজ্যটাই (West Bengal) এদের দখলে চলে যাবে। তাই সকলের উচিত, একজোট হয়ে এসআইআর-কে সমর্থন করা এবং তৃণমূল সরকারের অবসান ঘটাতে সাহায্য করা।
প্রথম থেকেই শুভেন্দু তথা বিজেপির নেতারা অনুপ্রবেশকারী এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) নিশানা করে আসছে। এর আগে বিরোধী দলনেতা এটাও বলেছিলেন - এসআইআর হলে ১ কোটির বেশি অবৈধ ভোটারের নাম বাদ যাবে যা আদতে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক। তিনি চান ভারতীয়রা তাঁকে ভোট (Indian Voters) দিয়ে বিধায়ক করুন। অ-ভারতীয়রা কেন ভোট দেবে? প্রশ্ন তোলেন তিনি। এই কারণে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করার ডাক দেন শুভেন্দু।
বিজেপি আগে থেকেই দাবি করে আসছে যে, এসআইআর হলে মৃত এবং ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে যা আদতে তৃণমূল ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। যদিও তৃণমূল পাল্টা দাবি করেছে, বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে শুধু নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক মজবুত করতে। এই ইস্যু নিয়েই এখন রাজ্য-রাজনীতিতে তরজা জারি।