পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ঘটনা ঘটেছে। কোথাও বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, কোথাও আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে, একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে যাকে 'এসআইআর আতঙ্ক' বলেই দাবি করেছে তৃণমূল।

মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 November 2025 18:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) যা বক্তব্য, কার্যত সেই একই সুর শোনা গেল সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের (Minakshi Mukherjee) গলাতেও। তিনিও দাবি করেছেন, এই প্রক্রিয়া অপরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশে সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে, আমজনতার মধ্যে আতঙ্ক, উদ্বেগ সবই বাড়ছে।
পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই নানা ঘটনা ঘটেছে। কোথাও বিএলও (BLO) অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, কোথাও আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে, একাধিক সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে যাকে 'এসআইআর আতঙ্ক' বলেই দাবি করেছে তৃণমূল (TMC)। এই প্রসঙ্গে মীনাক্ষীরও সাফ কথা, দায় নির্বাচন কমিশনকে (ECI) নিতে হবে।
সিপিএম নেত্রী বলেন, ''বিজেপির (BJP) মতো ফ্যাসিবাদী দলের কায়দা দেশজুড়ে ফুটে উঠছে। নির্বাচন কমিশনের দ্বারা এসআইআরের মাধ্যমে মানুষকে উদ্বিগ্ন, আতঙ্কিত করছে। কাদের নাম ভোটার তালিকায় (Voter List) থাকবে বা থাকবে না তা নয়, কাজের সঙ্গে সরকারিভাবে যারা যুক্ত তাদের ওপর অত্যাধিক চাপ তৈরি করছে তারা।'' কমিশনের উদ্দেশে মীনাক্ষীর বার্তা - যাদের নিয়ে কাজ করছেন তাদের মেরে ফেলবেন না।
নির্বাচন কমিশন (ECI) বলছে, মৃত (Dead) এবং ভুয়ো ভোটারের (Fake Voters) নাম তালিকা থেকে বাদ দিতেই এই প্রক্রিয়া। আগেও দেশে হয়েছে, এখনও হচ্ছে। কিন্তু মীনাক্ষীর বক্তব্য, ধারাবাহিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি নির্বাচন কমিশন (ECI)। আজ যদি তালিকায় মৃত ভোটারের নাম বেরোয় তাহলে দায় নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে। গ্রামের উদাহরণ টেনে তিনি এও বলেন, একজনের ভোটার লিস্টে (Voter List) নাম তুলতে জুতোর সুকতলা ক্ষয়ে যায়। তাহলে এতো ভুয়ো ভোটার এল কোথা থেকে?
একাধিক বিএলও-র অসুস্থতা এবং মৃত্যু প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের দিকে বল ঠেলেছেন মীনাক্ষী (Minakshi Mukherjee)। তাঁর কথায়, কমিশন যাকে নিয়ে কাজ করছে সে অসুস্থ হয়ে গেলে দায় তো কমিশনেরই। এখানে তো অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারে না। যারা সরকারি কর্মী তারাই বলছেন যে, চাপ নেওয়া যাচ্ছে না। আগে থেকে পরিকল্পনা না করে এইভাবে কাজের চাপ দেওয়াটাই যুক্তিহীন বলে মনে করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, সোমবারই পথে নেমেছে BLO অধিকার রক্ষা কমিটি (BLO Rights Protection Committee )। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া মিছিল যাওয়ার কথা রাজ্য নির্বাচন দফতরে (Election Commission, West Bengal)। সেখানে দিনভর অবস্থান বিক্ষোভ করবেন তাঁরা।
তাঁদের সরাসরি অভিযোগ, অমানবিক কাজের চাপের বিষয়ে বহুবার জানালেও নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে বিপুল কাজ সামলাতে গিয়ে ভুলভ্রান্তি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এদিকে ভুলের জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে চাপ যেন দ্বিগুণ। মানসিক আতঙ্ক, শারীরিক ক্লান্তি—এসব মিলে বহু অফিসার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। কয়েকজনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। এরই প্রতিবাদে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এই কর্মসূচি করছেন তাঁরা।