রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আরও বড় অভিযোগ, শরণ্যার্থী কারা আর অনুপ্রবেশকারী কারা তা গুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 29 July 2025 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভিন রাজ্যে বাঙালি হেনস্থার যে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তা সর্বৈব মিথ্যে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক থেকে এমনটাই দাবি করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বললেন, 'গুজব ছড়াচ্ছেন মমতা। আসলে শরণ্যার্থী এবং অনুপ্রবেশকারী কারা, তা গুলিয়ে দিতে চাইছেন তিনি।'
পশ্চিমবঙ্গে যে রোহিঙ্গা (Rohingya) ছেয়ে গেছে এবং তৃণমূল (TMC) তাদের ভোটেই জিতে আসছে, বিজেপির (BJP) এই দাবি পুরনো। এদিন সেই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ''রাজ্যে ৫৪০ কিমি বাংলাদেশ সীমান্তে (Bangladesh Border) কাঁটাতার নেই। রাজারহাট-নিউটাউনে ৩০-৩৫ শতাংশ ভোটার বৃদ্ধি কীভাবে, এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চায় জনতা।'' তাঁর এও কটাক্ষ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার বলেন - ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। তাহলে মোথাবাড়ি, সারশেরগঞ্জ, মহেশতলা, ভাঙড়ের মতো ঘটনা কেন ঘটে, সেটারও উত্তর দেওয়া দরকার।
শুভেন্দুর সাফ কথা, ''গুজব (False News) এবং মিথ্যে খবর রটাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কারণে তিনি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পর্যন্ত পেতে পারেন!'' শুধু বাঙালি হেনস্থা নিয়েই নয়, সব ক্ষেত্রেই যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যাচার করেন তার 'উদাহরণ' দেন বিরোধী দলনেতা। মন্তব্য, যিনি বাঙালি হেনস্থা নিয়ে কথা বলছেন তাঁর জন্যই ২৬ হাজার বাঙালির চাকরি গেছে। রাজ্যের বিরোধী শিবিরকে কর্মসূচি করতে হলে বারবার আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার আরও বড় অভিযোগ, শরণার্থী কারা আর অনুপ্রবেশকারী কারা তা গুলিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছে। আর এটা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুটির তফাৎ বোঝাতে গিয়ে শুভেন্দু বলেন, ''যারা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে বাংলাদেশ থেকে এদেশে আসছেন তাঁরা শরণার্থী। এর সঙ্গে সিএএ-র যোগ রয়েছে। তাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজই হচ্ছে। আর অনুপ্রবেশকারী হচ্ছে যারা মায়ানমার থেকে বাংলাদেশের কক্সবাজারে ক্যাম্পে ছিলেন, পরে খোলা সীমান্ত দেখে বাংলায় তথা দেশে ঢুকে পড়েছেন।''
শুভেন্দুর অভিযোগ, পুরোটাই হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। কারণ ২০১৭ সালে তিনি মানবিকভাবে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিলেন, জানান বিজেপি নেতা।