প্রমাণ ছাড়া তোলা অভিযোগ মানবেন না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মানহানির আইনি নোটিস পাঠালেন শুভেন্দু অধিকারী। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রমাণ না দিলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পথে হাঁটার হুঁশিয়ারি।

মমতা-শুভেন্দু (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 9 January 2026 22:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’পক্ষের তরজা এবার সরাসরি হাঁটল আইনি লড়াই পথে। কয়লা পাচার মামলার তদন্ত ঘিরে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) মানহানির আইনি নোটিস পাঠালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুক্রবার তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে এক্স হ্যান্ডেলে দাবি করলেন বিরোধী দলনেতা।
আইনি নোটিসে জানানো হয়েছে, গত ৮ ও ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে যে মন্তব্য করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, অসত্য ও মানহানিকর। নোটিসে অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে শুভেন্দু অধিকারীকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) সঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে দেন। অথচ সেই অভিযোগের সমর্থনে কোনও তথ্য বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন তাঁর কাছে নাকি এই অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই নোটিসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমস্ত নথি, তথ্য ও প্রমাণ শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না করা হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি, দু’ধরনের মানহানির মামলা করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
Today, CM Mamata Banerjee, in a desperate attempt to divert attention from an ongoing ED investigation, made absolutely baseless defamatory allegations against me, linking me to an 'alleged' coal scam alongside the Hon'ble Union Home Minister.
These reckless statements, laced… pic.twitter.com/bCNtb4XcW7— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) January 9, 2026
নোটিসে আরও উল্লেখ, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য শুধু মানহানিকরই নয়, ব্যক্তিগত কটাক্ষ ও অশালীন ইঙ্গিতেও ভরা। শুভেন্দু অধিকারীকে ‘দত্তক সন্তান’ বলার মতো মন্তব্যকে রুচিহীন ও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির জন্য অনুচিত। এতে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে শুভেন্দুর সামাজিক মর্যাদা ও তাঁর পরিবারের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
এই ধরনের মন্তব্য আসলে মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর পরিবার এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে চলা গুরুতর অভিযোগ ও তদন্ত থেকে জনদৃষ্টির দৃষ্টি ঘোরানোর কৌশল। পরিকল্পিতভাবেই জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে ওই নোটিসে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর আইনজীবী সূর্যনীল দাস (Suryaneel Das) এই নোটিস পাঠিয়েছেন। সেখানে স্পষ্ট, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে আইনের পথে হাঁটতে পিছপা হবেন না তিনি। রাজ্য রাজনীতিতে এই আইনি সংঘাত নতুন করে উত্তাপ বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।