শুভেন্দু দাবি করেছেন যে, ২০২৬ সালে রাজ্য থেকে বিদায় হবে তৃণমূল কংগ্রেসের, মুখ্যমন্ত্রিত্ব যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 16 September 2025 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah, Home Minister) সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তারপর মঙ্গলবার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন (WB Polls 2026) নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন তিনি। এর আগে বহুবার শুভেন্দু দাবি করেছেন যে, ২০২৬ সালে রাজ্য থেকে বিদায় হবে তৃণমূল কংগ্রেসের, মুখ্যমন্ত্রিত্ব যাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। এবার তিনি বললেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyamaprasad Mukhopadhayay) মাটিতে পদ্ম না ফুটলে বৃত্ত সম্পন্ন হবে না।
অমিত শাহের সঙ্গে ঠিক কী কথা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে শুভেন্দু অধিকারী সংবাদমাধ্যমে বলতে চাননি। শুধু বলেন, ''যতগুলি রাজ্যেই বিজেপি সরকার গঠন করুক না কেন, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটি বাংলায় যদি বিজেপি (BJP) না আসে তাহলে বৃত্ত সম্পূর্ণ হবে না।'' তাঁর সংযোজন, রাষ্ট্রীয় নেতারা প্রত্যেকেই বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী। একসময়ের ৩টি আসন যদি পরে ৭৭ হতে পারে, বা ১০ শতাংশ ভোট যখন ৪০ শতাংশে আসতে পারে তাহলে আসন সংখ্যা ১৭৭ আর ভোট ৪৫ শতাংশ না হওয়ার কোনও কারণ নেই।
রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দাবি, রাজ্যের মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় চান। কোনও দলের ঝাণ্ডা ছেড়ে, সাংবাদিক পরিচয় না দিয়ে প্রান্তিক বহু মানুষের কাছে প্রশ্ন করলে তাঁরা একই উত্তর দেবে যে - বিজেপির হাতে ধরেই বাংলায় পরিবর্তন চাই। কারণ বিজেপিই একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প পশ্চিমবঙ্গে। শুভেন্দুর খোঁচা, এটা এমন এক রাজ্য যেখানে ৯ বছর পর চাকরির পরীক্ষা (SSC Exam) হয় তাও সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে। এখানে এমনও অনেক যুবক রয়েছে যে একটা প্যান্ট তিনবার সেলাই করে পরে। তারা জানে বেকারত্বের জ্বালা।
কেন বিজেপিই একমাত্র বিকল্প, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক। বলেন, যে রাজ্যেই বিজেপি সরকার রয়েছে, সেটা যাঁদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হোক না কেন, নজরদারি থাকে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। তাঁর দেশপ্রেম, মমত্ব, জনগণের প্রতি একাত্বতা সর্বজনবিদিত। প্রধানমন্ত্রীর সততা নিয়ে বিরোধীরাও প্রশ্ন তুলতে পারেনি, ভবিষ্যতেও পারবে না।
প্রসঙ্গত, আপাতত এখন চর্চায় রয়েছে অমিত শাহর সঙ্গে শুভেন্দুর বৈঠকের বিষয়টি। সূত্রের খবর, বাংলার (West Bengal) বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিজেপির সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয় দু’জনের মধ্যে। রাজ্য বিজেপির ভিত মজবুত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সেই সংক্রান্ত দিকনির্দেশও মেলে বলে জানা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যে সংগঠন চাঙ্গা করতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য রাজনীতিতে চলতে থাকা উত্তেজনার আবহে শুভেন্দুর দিল্লি সফর ও শাহর সঙ্গে একান্তে বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।