
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 16 January 2025 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুরে স্যালাইন কাণ্ডে মৃত প্রসূতির পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার মামনি রুইদাসের বাড়ি গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন বিষ স্যালাইনে মৃত্যুর গোটা দায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁকেই নিতে হবে।
মেদিনীপুর মেডিক্যালে প্রসূতি মামনি রুইদাসের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর গাফিলতির কথা ইতিমধ্যে স্বীকার করে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য। মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জানিয়েছেন, প্রসূতিদের চিকিৎসার সময় প্রোটোকল মানা হয়নি। অস্ত্রোপচারের সময় সিনিয়র চিকিৎসকের উপস্থিতি থাকা উচিত ছিল, যা ঘটেনি। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ মিলবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
এই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু জানান, '১৩ ডিসেম্বর কর্নাটক সরকার রাজ্য সরকারকে বলেছিল এই ওষুধ দেওয়া বন্ধ করতে। আজ জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখ। আমাকে স্পেশ্যাল সেক্রেটারি বলেছেন, ১০ ডিসেম্বর এটা জেনেছি। এবার বলুন আপনারা, এটা মার্ডার ছাড়া আর কী বলবেন? কাল সকালে কোনও ভোট নেই যে এসব বলে রাজনীতি করতে এসেছি। এটা সরকারের দ্বারা মার্ডার। গরিব মানুষ কোথায় যাবে চিকিৎসা করাতে? আমাদের বাড়ির লোক প্রাইভেট হাসপাতালে যায়, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির লোক সিঙ্গাপুর, নিউ ইয়র্কে গিয়ে চিকিৎসা করায়। আর আপনারা যখন সরকারি হাসপাতালে যাবেন, তখন বিষ স্যালাইন দেবেন?'
রাজ্য সরকারের উদ্দেশে কড়া ভাষায় শুভেন্দুর প্রশ্ন, 'বিষ আছে জেনেও কেন লক্ষ লক্ষ রোগীকে এই ওষুধ দেওয়া হল? এটা রাজ্য সরকারে মার্ডার। এখন তো রাজতন্ত্র নেই, গণতন্ত্রে সরকারই হচ্ছে প্রভু, প্রভু তার প্রজাদের মারছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়ে কী হবে যেখানে বিষাক্ত স্যালাইন দিয়ে লক্ষ্মীকেই কেড়ে নিচ্ছেন?'
প্রসূতির স্বামীকে শুভেন্দু এও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, রাজ্য সরকার ক্ষতিপূরণ দিতে চাইলে তিনি যেন ৫০ লক্ষ টাকার এক পয়সাও কম না নেন। এর জন্য যতদূর যেতে হয় বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনিই পাশে থাকবেন।
প্রসঙ্গত, স্যালাইন কাণ্ডে মামনি রুইদাস ছাড়াও আরও চার প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েন এই স্যালাইনের ঘটনায়। তাঁদের মধ্যে তিনজন এই মুহূর্তে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল নয় তবে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শ মেনে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। অন্যদিকে আজই ভোর রাতে মৃত্যু হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যালের এসএনসিইউ ইউনিটে ভর্তি থাকা এক সদ্যোজাতের।
অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে স্যালাইন কাণ্ডে মৃত প্রসূতির পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে মেনে নিল রাজ্য সরকার। নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মৃতার পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে। পরিবারের এক সদস্যকে দেওয়া হবে চাকরি। স্যালাইন কাণ্ডে স্বাস্থ্যদফতর ও সিআইডির জোড়া তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকদের গাফিলতি প্রমাণিত হয়েছে। এমনকী দু'টি রিপোর্ট মিলে গিয়েছে। তাই হাসপাতালের সুপার-সহ জুনিয়র এবং সিনিয়র মিলিয়ে মোট ১২ চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হচ্ছে। সাসপেন্ড হওয়া ডাক্তারদের বিরুদ্ধে সিআইডি তদন্ত করবে।’