তৃণমূল সরাসরি তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় যিনি এই মামলার রায় দিয়েছিলেন, তাঁকে কটাক্ষ করেছে। তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ঢাকি সমেত বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন হয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 3 December 2025 19:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার প্রাথমিকের ৩২ হাজার চাকরি বাতিল মামলায় (32 Thousand Job Cancel) সিঙ্গল বেঞ্চের (Single Bench) চাকরি বাতিলের নির্দেশ খারিজ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ (Division Bench)। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ৯ বছর পর চাকরি কেড়ে নিলে শিক্ষাক্ষেত্রে তো বটেই, তাদের পরিবারের ওপরও চাপ পড়বে। তৃণমূল কংগ্রেস এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বিজেপিকে নিশানা করেছে। বক্তব্য, বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন হয়েছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্বভাবতই এই রায় নিয়ে বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
এসএসসি-র ২৬ হাজার চাকরি (SSC Case) বাতিল মামলার রায়ের প্রসঙ্গে টেনে তিনি এদিন সংবাদমাধ্যমে বলেন, ''এসএসসি-র ক্ষেত্রে পদ্ধতি দেখানো হয়েছে, প্রাথমিকের ক্ষেত্রে ৯ বছরের চাকরি, পরিবারের ক্ষেত্র দেখানো হয়েছে। এক-একটি বেঞ্চ, এক-একজন বিচারপতির ব্যাখ্যা এক-একেক রকম।'' তাহলে এই রায় নিয়ে তাঁর কী মত?
শুভেন্দু বলেন, ''সিঙ্গল বেঞ্চের রায় ছিল তথ্য এবং নথির ভিত্তিতে। আর ডিভিশন বেঞ্চের রায় হয়েছে ৩২ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পরিবারের কথা ভেবে। তবে আমি মনে করি আইনে সবসময়ে নথি এবং তথ্যের ওপরই জোর দেওয়া উচিত।'' তৃণমূল সরাসরি তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Abhijit Gangopadhayay) যিনি এই মামলার রায় দিয়েছিলেন, তাঁকে কটাক্ষ করেছে।
তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্য, ঢাকি সমেত বাংলা বিরোধীদের বিসর্জন হয়েছে। তিনি বিচারপতি ছিলেন না বিজেপির দালাল ছিলেন - সেটা আজ স্পষ্ট হয়েছে। অরূপের দাবি, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় শুধুমাত্র চাকরি খাওয়ার জন্য রায় দিয়েছিলেন। পাশাপাশি বাংলা বিরোধীরা, কাক-চিল-শকুনের মতো অপেক্ষা করছিলেন রাজ্যের যুবক-যুবতীদের ভবিষ্যৎ নষ্ঠ হওয়ার, মেরুদণ্ড ধ্বংস হওয়ার। কিন্তু আজকে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ যে রায় দিয়েছে তাতে প্রমাণ হয়েছে যে, রাজ্যের নিয়োগ সঠিক ছিল। এতে বাংলা বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত ব্যর্থ হয়েছে।
কিন্তু এই রায়ের প্রতিক্রিয়ায় হঠাৎ 'ঢাকি সমেত বিসর্জন' - উক্তিটি করলেন কেন অরূপ? আসলে ২০২২ সালে ২০১৬-র প্রাথমিকে ভুয়ো নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় (2016 Primary Recruitment Case) তৎকালীন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় এই মন্তব্য করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, এই বছরের ১২ নভেম্বর শুনানি শেষ হওয়ার পরে প্রায় তিন সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয় সকলকে। অবশেষে বুধবারের রায় জানিয়ে দিল - প্রাথমিকের ৩২ হাজার নিয়োগ বৈধ। ফলে প্রায় দু’বছরের অনিশ্চয়তার পরে চরম স্বস্তিতে শিক্ষকরা।