রাজ্য সরকারের প্রকল্প - আমার পাড়া, আমার সমাধানকে কার্যত কটাক্ষ করে শুভেন্দু পাল্টা স্লোগান তোলেন, 'আমার পাড়া, তৃণমূল ছাড়া'।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 18 October 2025 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা, বালি থেকে শুরু শিক্ষক দুর্নীতি, রাজ্যে ইডি-সিবিআইয়ের সক্রিয়তা থাকেই। আর সব ইস্যুতেই কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীরা। ফের একবার এই বিষয়টি নিয়েই সরব হলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সরকার তো বটেই রাজ্য পুলিশের (WBP) ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে হুঁশিয়ারিও দিয়ে রাখলেন তিনি। বললেন - পরের কালীপুজোয় ওরা থাকবে না, আমরা থাকব।
পাণ্ডবেশ্বরের জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে দুর্নীতি (Corruption) প্রসঙ্গেই তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) বিঁধেছেন শুভেন্দু অধিকারী। সভায় আগতদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ''একদিকে বালি চিচিংফাঁক, অন্যদিকে কয়লা পাচার। লুট চলছে, কোনও নদীর অস্তিত্ব নেই। সব ঝেড়ে ফাঁক করে দিচ্ছে এরা।'' তাঁর সংযোজন, ''কয়লা সিন্ডিকেটও চালু হয়ে গেছে। একদিকে মাফিয়া, অন্যদিকে পুলিশ। তোলা তোলো, টিনে ঢোকাও, সামনে পিছনে হুটার বাজিয়ে কালীঘাটে পৌঁছে দাও, এই চলছে।''
রাজ্য সরকারের প্রকল্প - আমার পাড়া, আমার সমাধানকে কার্যত কটাক্ষ করে শুভেন্দু পাল্টা স্লোগান তোলেন, 'আমার পাড়া, তৃণমূল ছাড়া'। বলেন, অসুরের মতো এদেরও নিধন করতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশকে তাঁর হুঁশিয়ারি, যতই চিৎকার করেন না কেন, আগামী কালীপুজোয় বিজেপি থাকবে, তাঁরা থাকবেন না!
শুভেন্দুর কথায় এদিনও উঠে আসে দুর্গাপুরের (Durgapur) ধর্ষণ প্রসঙ্গ। বলেন, এই সরকার, পুলিশ সবাই অপদার্থ। কেউই ওই মেয়েটিকে রক্ষা করতে পারেনি। তাঁর পরিবার বাংলা ছেড়ে চলে গেল এটা সকলের জন্য লজ্জা। মমতাকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দুর কটাক্ষ, ''আপনি মেয়েদের বলছেন নিজেদের সুরক্ষা বুঝে নিতে। লকডাউনের মতো সব বন্ধ করে দিন।'' এরপরই ২৬-এর ভোট প্রসঙ্গে কার্যত ভবিষ্যদ্বাণী করেন শুভেন্দু অধিকারী।
বিজেপি বিধায়কের কথায়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে বর্তমান সরকারের আমলে। শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, এসআইআর হলে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস বলে কোনও দলের অস্তিত্বই থাকবে না। সিপিএম-এর (CPM) প্রসঙ্গে তুলে তিনি এও বলেন, লাল পার্টি তাও কোনও রকমে টিকে আছে, কিন্তু তৃণমূল ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।
শুক্রবার একই সুরে রাজ্য সরকারকে নিশানা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা। স্পষ্ট আওয়াজ তুলেছেন - নো এসআইআর (SIR), নো ভোট। তাঁর পরিষ্কার বক্তব্য, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ভোট শতাংশ এবং ভোটের সংখ্যার যে গ্যাপ রয়েছে, এসআইআর হলে সেটা থাকবে না। কারণ তৃণমূলের হয়ে ভোট দেওয়া সব ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে।