শুভেন্দুর বক্তব্য, একাধিক পর্যায়ে এসআইআরের কাজ হচ্ছে দেশে। প্রথমে হয়েছিল বিহারে। সেখানেও অনেক অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। তৃণমূলও সেই মামলার পার্টি হয়েছিল। কিন্তু যাই অভিযোগ থাক না কেন, দেশের শীর্ষ আদালত কী রায় দিয়েছে সবাই জানে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 5 January 2026 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরু থেকে এসআইআরের (SIR) বিরোধিতা করে এসেছিল রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার (TMC Govt)। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) বলেছিলেন, বাংলায় এসআইআর করতে দেবেন না। শুধু তাই নয়, দাবি করা হয়েছিল, এসআইআর করে ঘুর পথে এনআরসি করতে চাইছে বিজেপি। কিন্তু অবশেষে দেখা গেল, নির্ধারিত সময়ই বাংলায় এই প্রক্রিয়া চালু হয়েছে এবং বর্তমানে তার কাজও চলছে। এই বিষয়টি নিয়েই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) খোঁচা - মমতা আসলে এপ্রিল মাসটা কোনওভাবে পার করতে চাইছেন।
সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু প্রশ্ন তোলেন, মমতার সরকার এসআইআরের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) পর্যন্ত গেছিল - কী হল, জানতে চায় বাংলার মানুষ। যে দিন থেকে বিহারে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেদিন থেকেই দেশে তা শুরু হয়েছে। এতএব, পরিকল্পনা করে যে এই কাজ নির্বাচন কমিশন করছে না, তৃণমূলের এই অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক।
শুভেন্দুর বক্তব্য, একাধিক পর্যায়ে এসআইআরের কাজ হচ্ছে দেশে। প্রথমে হয়েছিল বিহারে (Bihar SIR)। সেখানেও অনেক অভিযোগ উঠেছিল। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছিল। তৃণমূলও সেই মামলার পার্টি হয়েছিল। কিন্তু যাই অভিযোগ থাক না কেন, দেশের শীর্ষ আদালত কী রায় দিয়েছে সবাই জানে। এতএব এটাও প্রমাণ হয়, তৃণমূলের দাবি অযৌক্তিক ছিল। এই প্রসঙ্গেই, শুভেন্দুর সংযোজন - মানুষের করের টাকায় আইনজীবী লাগিয়ে এসআইআরের বিরোধিতা করেছিল তৃণমূল।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শুভেন্দু ফের একবার দাবি করেন, এঁরা যতই ভাবুন যে এই সরকার থাকবে, সেটা থাকবে না। তাঁর সাফ কথা - তৃণমূল ভাবছে মুসলিমরা আগের মতোই তাদের পাশে আছে, ভাবছে আগের মতো বুথ লুট করে ভোট দেওয়া যাবে, লাইট নিভিয়ে ছাপ্পা করানো যাবে। কিন্তু তা হবে না। শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ - বিজেপি তা করতে দেবে না।
প্রসঙ্গত, এসআইআর নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে অভিযোগ তুলেছেন তা নস্যাৎ করে এদিনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। সেই চিঠিতে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) দাবি করেছেন, SIR কোনও ‘হঠকারী’ বা ‘অপরিকল্পিত’ প্রক্রিয়া নয়। বরং ভুয়ো ও অযোগ্য ভোটারের নাম ছাঁটাই করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভোটার তালিকায় বেআইনি নাম ঢোকানোর সুযোগ পেয়েছে শাসকদল, আর সেই ‘অস্বস্তিকর সত্য’ সামনে আসছে বলেই আপত্তি তুলছে রাজ্য সরকার।
চিঠিতে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর তরফে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা আসলে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা। শুভেন্দুর দাবি, মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিজেদের নথি যাচাই করাচ্ছেন এবং কমিশনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।
একই সঙ্গে কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং বুথ স্তরের এজেন্টদের ভূমিকা সীমিত করার সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করেছেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা, যাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না হয়।