শাসকদলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "হুমায়ুনকে ৩ জন দেহরক্ষী দিয়েছে রাজ্য। তারপরও তাঁর যদি প্রাণ সংশয়ের বিষয় থাকে তাহলে তিনি লিখিতভাবে রাজ্যের কাছে আবেদন করতে পারেন। আসলে খবরে থাকার জন্য হুমায়ুন এসব করছেন।"

হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 8 December 2025 15:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা ভোটে বাংলার ১৩৫টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তিনি নতুন দল গঠন করে প্রার্থী দেবেন বলে ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। শনিবার মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাসের পর থেকেই তাঁকে কেন্দ্র করে বিতর্ক চড়ছে। এমন আবহে এবার নিজের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন হুমায়ুন (Suspended Trinamool MLA Humayun Kabir expresses fear for his life)।
সোমবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে নানাভাবে চাপ তৈরি করা হচ্ছিল। এবার ফোনে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।"
তবে রাজ্যের বাইরে থেকে হিন্দি ভাষায় ফোন করে নানাভাবে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
এখানেই না থেমে হুমায়ুন বলেন, "রাজ্য সরকার হয়তো আমার নিরাপত্তা নাও বাড়াতে পারে। তাই জীবন সংশয় ঠেকাতে আদালতেরও দ্বারস্থ হতে পারি।"
যদিও হুমায়ুনের এহেন আশঙ্কার বিষয়ে জেলা পুলিশের কাছে কোনও খবর নেই। অন্যদিকে শাসকদলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, "হুমায়ুনকে ৩ জন দেহরক্ষী দিয়েছে রাজ্য। তারপরও তাঁর যদি প্রাণ সংশয়ের বিষয় থাকে তাহলে তিনি লিখিতভাবে রাজ্যের কাছে আবেদন করতে পারেন। আসলে খবরে থাকার জন্য হুমায়ুন এসব করছেন।"
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার বহরমপুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় গিয়ে হুমায়ুন জানতে পারেন, দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে। এরপরই বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড বিধায়ক। জানিয়েছিলেন, ১৭ ডিসেম্বর বিধানসভায় স্পিকারের কাছে গিয়ে চার লাইনে নিজের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা পত্র দিয়ে আসবেন। যদিও এদিন সেই ঘোষণা থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে হুমায়ুন বলেন, "ভরতপুরের মানুষের দাবি মেনে আপাতত বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছি না"।
এও জানান, আগামী বিধানসভা ভোটে রাজ্যের ১৩৫টি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত আসনে জোট করে প্রার্থী দেবেন তিনি। তাঁর কথায়, “ আসাদউদ্দিন ওয়েইসির (Asauddin Owisi) দল এআইএমআইএম এর সঙ্গে কথা হয়েছে। পাশাপাশি আইএসএফ এলে ভাল। বামফ্রন্ট চাইলে স্বাগত। কংগ্রেসও (Congress) আপত্তির নয়। আমার লক্ষ্য একটাই— বঙ্গ বিজেপিকে রোখা এবং আরএসএস ভাবাদর্শের মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমতা থেকে সরানো।”
যদিও হুমায়ুনের জল্পনা উড়িয়ে এআইএমআইএম এর মুখপাত্র সায়দ আসিম ওয়াকারের দাবি, “হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) আসলে শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোক। আর পুরো দেশ জানে, শুভেন্দু অধিকারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর (Amit Shah) কোর টিমের সদস্য। আমরা শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রশ্নে কোনও আপস করি না।” হুমায়ুন প্রসঙ্গে তাঁর সাফ কথা, যে রাজনীতি মানুষের মধ্যে বিভেদ ছড়ায়, সেই রাজনীতিতে আমাদের জায়গা নেই। বাংলার মুসলিম সমাজ খুব ভাল করেই জানে, কার নির্দেশে হুমায়ুন কাজ করছেন।
আর হুমায়ুনের হুঁশিয়ারি উড়িয়ে তৃণমূলের বক্তব্য, নতুন দল গঠন করে জয় তো দূরে থাক, হুমায়ুন ভোটে দাঁড়ালে জয় তো দূরের কথা, ওর নিজের জামানতও জব্দ হবে।