শুনানির সময় মালদহের কালিয়াচক এলাকার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 6 April 2026 20:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (West Bengal SIR) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। সোমবারের শুনানিতে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ তোলে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) কিছু মন্তব্য পরিবেশকে উত্তেজিত করছে। এই প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, প্রয়োজন হলে তাঁরা সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে।
শুনানির সময় মালদহের কালিয়াচক এলাকার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং কিছু বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আদালতে কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআরপিএফ - নিয়ে এমন মন্তব্য করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা বাড়াতে পারে। অভিযোগ, ওই বক্তব্যে বলা হয়েছে যে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা হামলা করতে পারে, এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, এই ধরনের মন্তব্য ভোটের আবহে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।
এই সংক্রান্ত বক্তব্যের নথিও আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা শুনানিতে জানান, একটি ভিডিওতে এক বিচারিক আধিকারিককে প্রকাশ্যে ভীত ও আবেগপ্রবণ অবস্থায় দেখা গিয়েছে। সেখানে তিনি নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, যদি রাজ্য প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে আদালত পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট, পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে শীর্ষ বিচারব্যবস্থা।
এদিনই মালদহের ঘটনায় ধৃতদের এনআইএ-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথিও এনআইএ-র কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মালদহে সাত জুড়িশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মোফাক্কেরুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়।