মালদহে সাত জুড়িশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মোফাক্কেরুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 April 2026 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যে মালদহের মোথাবাড়ির (Malda Mothabari news) ঘটনা নিয়ে সোমবারও কড়া কথা শোনাল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন মোথাবাড়ির ঘটনা নিয়ে শীর্ষ আদালতে শুনানি ছিল। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল, ট্রাইব্যুনালের কাজ নির্বিঘ্নে চালানোর মতো পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনকে। এবং মোথাবাড়িতে বিচারকদের উপর হামলার ঘটনার তদন্ত করবে এনআইএ-ই (NIA)।
মালদহে সাত জুড়িশিয়াল অফিসারকে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাওয়ের ঘটনায় রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইতিমধ্যেই ২৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে মোফাক্কেরুল ইসলাম ও শাহজাহান আলিকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, ধৃতদের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র হাতে তুলে দিতে হবে। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত নথিও এনআইএ-র কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় মোথাবাড়ির ঘটনার একটি ভিডিও আদালতে পেশ করা হয়। সেই ভিডিওতে এক বিচারকের আতঙ্কিত আর্তনাদ শোনা যায় বলে জানা গিয়েছে। ভিডিওটি দেখার পর প্রধান বিচারপতি বলেন, রাজ্য প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ আদালত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কমিশনের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, বিশেষ করে সিআরপিএফ নিয়ে করা মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। আদালতে সেই প্রসঙ্গও উত্থাপন করা হয়।
সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে ২৫ পাতার রিপোর্ট জমা দিয়েছে এনআইএ। এই ২৫ পাতার রিপোর্টে আক্রান্ত বিচারকদের বয়ানের পাশাপাশি মোথাবাড়ি অঞ্চলের ২২ জন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) জবানবন্দি গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেও বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে অনুমান।
তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠিক কতটা ছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরেই তা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শীর্ষ আদালতের এই হস্তক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।