এ দিন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নন্দলাল বসুর পৌত্রের পক্ষে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চালির বেঞ্চ আবেদনকারীকে অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।

নন্দলাল বসুর নাতির আবেদনে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
শেষ আপডেট: 6 April 2026 18:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সংবিধানের অলঙ্করণ করেছিলেন যে কিংবদন্তি শিল্পী, সেই নন্দলাল বসুর (Nandalal Bose) ৮৮ বছর বয়সি নাতির নামও বাদ পড়েছে পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত ভোটার তালিকা থেকে! ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (SIR) প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়ায় আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা। শুধু সাধারণ মানুষই নন, খোদ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত আপিল ট্রাইব্যুনালে এবার বিচার চাইলেন ওই বৃদ্ধ।
এ দিন সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) নন্দলাল বসুর নাতির হয়ে সওয়াল করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চালির বেঞ্চ আবেদনকারীকে অবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু আদালতকে আশ্বস্ত করে জানান, ট্রাইব্যুনালকে এই বিষয়ে সব রকম সহযোগিতা করা হবে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, বিষয়টির গুরুত্ব বিচার করে দ্রুত ফয়সালা করতে হবে। প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহেই একই ভাবে নাম বাদ পড়া কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখকে ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। তারপর প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ দিনই মহতাবের আবেদন মঞ্জুর করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের ভোটার (West Bengal Assembly Election 2026) তালিকা নিয়ে চলা এই জটিলতা কাটাতে এ দিন একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমানে রাজ্যে ১৯টি অ্যাপেল ট্রাইব্যুনাল কাজ করছে, যার শীর্ষে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও প্রবীণ বিচারপতির দল। আদালতের পর্যবেক্ষণ,
ঐক্যবদ্ধ পদ্ধতি: সব ক’টি ট্রাইব্যুনালের কাজের পদ্ধতিতে যাতে সামঞ্জস্য থাকে, তার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে তিন জন প্রবীণতম অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে ট্রাইব্যুনালগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কর্মপদ্ধতি (SOP) তৈরি করবে।
পুরনো নথি খতিয়ে দেখা: কেন কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হল বা অন্তর্ভুক্ত করা হল, তার আসল কারণ এবং অ্যাডজুডিকেটিং অফিসারদের নথিপত্র খতিয়ে দেখে তবেই স্বাধীন সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে ট্রাইব্যুনাল।
ভৌগোলিক পরিকাঠামো: গত ১ এপ্রিলের নির্দেশে যে যে জায়গাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেখান থেকেই ট্রাইব্যুনালগুলো কাজ করবে। জেলাশাসকের দফতর থেকে অফলাইনে আবেদন জমা নেওয়ার পর রসিদ দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
আদালত জানিয়েছে, ট্রাইব্যুনালের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও নোডাল অফিসার নিয়োগের কাজ সারা। প্রাক্তন বিচারপতিদের সাম্মানিক বা অনারারিয়াম যাতে দ্রুত ব্যাঙ্কে পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে।