এনআইএ-র ওই রিপোর্ট দেখে সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দিতে পারে তা ভেবে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে নবান্নে। কারণ, মোথাবাড়ির ঘটনার দিন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যারপরনাই অসন্তুষ্ট ছিল শীর্ষ। রাজ্যের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও জেলার এসপি, ডিএম-দের শো’কজ করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

শেষ আপডেট: 6 April 2026 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো : মোথাবাড়িকাণ্ডে (Malda Mothabari News) এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপের পথে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। বুধবার রাতে জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর হামলার ঘটনায় এনআইএ (NIA) যে তদন্ত শুরু করেছিল, তার প্রাথমিক নির্যাস এখন দিল্লির হাতে। সূত্রের খবর, এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং (Sonia Singh IG NIA) ইতিমধ্যেই ২৫ পাতার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়ে রাজধানী পৌঁছে গিয়েছেন। আজ, সোমবার সেই রিপোর্ট জমা পড়তে চলেছে সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court)। হামলার আগে-পরে ঠিক কী ঘটেছিল, প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল—সবটাই এখন সর্বোচ্চ আদালতের আতশকাচের নীচে।
এনআইএ-র ওই রিপোর্ট দেখে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme court) কী নির্দেশ দিতে পারে তা ভেবে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে নবান্নে (Nabanna)। কারণ, মোথাবাড়ির ঘটনার দিন রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে যারপরনাই অসন্তুষ্ট ছিল শীর্ষ আদালত। রাজ্যের মুখ্য সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও জেলার এসপি, ডিএম-দের শো’কজ করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে আদালত শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।
NIA রিপোর্টে কী আছে? চাঞ্চল্যকর তথ্যের ইঙ্গিত
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই ২৫ পাতার রিপোর্টে আক্রান্ত বিচারকদের বয়ানের পাশাপাশি মোথাবাড়ি অঞ্চলের ২২ জন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) জবানবন্দি গুরুত্ব সহকারে নথিভুক্ত করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানেও বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে অনুমান। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনার দিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা ঠিক কতটা ছিল এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র এই রিপোর্টে তুলে ধরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরেই তা সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হচ্ছে।
“বিচার বিভাগ কি সুরক্ষিত?” প্রধান বিচারপতির কড়া হুঙ্কার
এই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে আগেই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI Surya Kant) এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এজলাসে বসে তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, “যদি রাজ্যের বিচার বিভাগীয় অফিসাররাই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিচার ব্যবস্থার ওপর এই ধরনের আক্রমণ কোনওভাবেই সহ্য করা হবে না।”
প্রধান বিচারপতি আরও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রয়োজন পড়লে আদালত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আরও সক্রিয় করার নির্দেশ দিতে পারে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে। আজ এনআইএ-র রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পর প্রধান বিচারপতি কী পর্যবেক্ষণ দেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
কেন উত্তাল মোথাবাড়ি?
গত বুধবার রাতে মালদহের মোথাবাড়িতে ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে গিয়ে একদল উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়েন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা। সেই হামলার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করে। অভিযোগ ওঠে, বিচারকদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করা হয় এবং তাঁদের হেনস্থা করা হয়। সেই মামলার তদন্তভার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এনআইএ-র হাতে যায়।
সব মিলিয়ে মোথাবাড়ির এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই সরগরম বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের ময়দান। একদিকে এনআইএ-র এই রিপোর্ট, অন্যদিকে সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ—চুম্বকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।