মোদীর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এই হামলা আসলে সংবিধানের গলা টিপে ধরার সামিল।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 5 April 2026 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজবংশী গড় কোচবিহারের রাসমেলার মাঠ থেকে রবিবার বাংলার ভোটপ্রচার (West Bengal Assembly Election 2026) শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। একদিকে যখন মালদহের (Malda Kaliachak Incident) কালিয়াচকে বিচারকদের ‘বন্দি’ করে রাখার ঘটনায় তোলপাড় পড়ে গেছে, ঠিক তখনই সেই ক্ষতয় নুন ছিটিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলকে (TMC) বেনজির আক্রমণে বিঁধলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাফ কথা, মালদহে যা ঘটেছে তা কেবল বিশৃঙ্খলা নয়, ওটা ছিল তৃণমূলের ‘পরিকল্পিত মহাজঙ্গলরাজ’।
মালদহের মোথাবাড়ির ঘটনায় তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, ‘‘গোটা দেশ দেখেছে, কী ভাবে কালিয়াচকে বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল। এটা কেমন সরকার, যেখানে বিচারপতি এবং সংবিধানও সুরক্ষিত নয়?’’ মোদীর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের ওপর এই হামলা আসলে সংবিধানের গলা টিপে ধরার সামিল। তাঁর দাবি, তৃণমূলের মদতেই এই ঘটনা ঘটেছে এবং এর লক্ষ্য ছিল বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।
অন্যদিকে, কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে সাত বিচারককে সাড়ে সাত ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত ‘মূলচক্রী’ মফাক্কেরুল ইসলামকে শুক্রবার সকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পেশায় আইনজীবী মফাক্কেরুলকে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় পাকড়াও করা হয়। আপাতত তিনি ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীদের দাবি, মফাক্কেরুলই সেই রাতে ভিড়কে উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা এবং নির্দেশ মেনে এই মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। শুক্রবার সকালেই কলকাতায় পা রাখেন এনআইএ-র আইজি সোনিয়া সিং। তাঁর নেতৃত্বেই ২৪ জনের একটি বিশেষ দল মালদহে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিস ও মোথাবাড়ি থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিচারকদের ওপর এই হামলা বা ঘেরাওয়ের পিছনে কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র বা বড় কোনও সংগঠনের হাত ছিল কি না।
মোদীর এই সফর এবং মালদহ-কাণ্ডে এনআইএ-র সক্রিয়তা— দুই মিলিয়ে বাংলার বিধানসভা ভোটের প্রেক্ষাপট এখন তপ্ত। প্রধানমন্ত্রীর ‘মহাজঙ্গলরাজ’ মন্তব্যের পাল্টা তৃণমূল কী প্রতিক্রিয়া দেয়, এখন সেটাই দেখার।