গত কয়েক দিন ধরে যে গুঞ্জন ছড়াচ্ছিল, এদিন সরকারিভাবে তা খারিজ করে দিল মালদহ জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিকের দফতর।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 4 April 2026 20:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহের কালিয়াচকে (Malda Kaliachak Incident) এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের (Judicial Officers) নিরাপত্তা নিয়ে যে টানাপড়েন শুরু হয়েছিল, শনিবার তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল জেলা প্রশাসনের একটি প্রেস নোট। প্রশাসনের দাবি, বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কোনও চিঠি তাঁদের কাছে পৌঁছয়নি। গত কয়েক দিন ধরে যে গুঞ্জন ছড়াচ্ছিল, এদিন সরকারিভাবে তা খারিজ করে দিল মালদহ জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিকের দফতর।
এদিন প্রকাশিত ওই প্রেস নোটে জানানো হয়েছে, ২৩ মার্চ কতিপয় বিচারবিভাগীয় আধিকারিক তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন বলে যে খবর রটেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। জেলাশাসকের দফতর জানিয়েছে, ২৩ মার্চ থেকে আজ (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত এই ধরনের কোনও যোগাযোগ বা বার্তা তাঁদের হাতে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করার পরেই এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
চিঠি পাওয়ার বিষয়টিকে অস্বীকার করলেও, বিচারকদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশাসন যে আপসহীন, তা এদিন পুনরায় স্পষ্ট করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “জেলা প্রশাসন মালদহ বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপদ ও সুরক্ষিত কর্মপরিবেশ এবং তাঁদের কল্যাণের জন্য সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সেই সঙ্গে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রশাসন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনা হল, গত বুধবার ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়াকে কেন্দ্র করে কালিয়াচকে বিচারকদের রাতভর ‘বন্দি’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পরেই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত উদ্বেগ প্রকাশ করে। এর পরেই জল্পনা শুরু হয় যে, নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে আগেই চিঠি পাঠিয়েছিলেন বিচারকরা। এদিনের প্রেস নোট সেই জল্পনায় ইতি টানার চেষ্টা করলেও, মালদহের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এসআইআর জট নিয়ে চাপানউতর অব্যাহত।
এসআইআর-এ নাম বাদ পড়ার অভিযোগে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয় এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত বিচারককে। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টকে জানান। বৃহস্পতিবার সকালে এসআইআর মামলার শুনানিতে আদালত প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে। এনআইএ বা সিবিআই-এর মতো সংস্থাকে ওই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দিতে বলা হয়। তদন্তকারী সংস্থা আদালতে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেবে। এর পরেই নির্বাচন কমিশন জরুরি বৈঠকে বসে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে। জ্ঞানেশের ভর্ৎসনার মুখে পড়েন পুলিশ আধিকারিকেরা। শেষ পর্যন্ত মালদহ কাণ্ডে এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।