নতুন সরকারি আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের জমা দেওয়া নথি যাচাইয়ের কাজে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এই প্রেক্ষিতে, আবেদনকারীদের একাংশের প্রস্তাব মেনে আদালত নির্দেশ দেয়, ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় পাবেন ইআরও-রা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 17:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর (West Bengal SIR) সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানাল, মাইক্রো- অবজার্ভারদের (Micro Observers) দায়িত্ব সীমিত থাকবে কেবলমাত্র ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (ERO) সহায়তার মধ্যেই। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কোনও অবস্থাতেই মাইক্রো-অবজার্ভারদের হাতে থাকবে না।
শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে, কোনও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার অধিকার মাইক্রো-অবজার্ভারদের (Micro Observers) নেই। এই ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে ইআরও-দের কাছেই থাকবে। আদালতের মতে, প্রশাসনিক সহায়তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন বজায় রাখা জরুরি, যাতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং আইনি কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকে।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি আরও উল্লেখ করেন, নতুন সরকারি আধিকারিকদের অন্তর্ভুক্তির ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের জমা দেওয়া নথি যাচাইয়ের কাজে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। এই প্রেক্ষিতে, আবেদনকারীদের একাংশের প্রস্তাব মেনে আদালত নির্দেশ দেয়, ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও এক সপ্তাহ সময় পাবেন ইআরও-রা। ওই সময়ের মধ্যেই নথি যাচাই সম্পূর্ণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিনই মামলার শুনানিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান আদালতকে জানান, নির্বাচন কমিশনের কাজে সহযোগিতার জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই ৮,৫০০ জন কর্মী দিয়েছে। তাঁর দাবি, শনিবার ই-মেলের মাধ্যমে এই তথ্য কমিশনকে জানানো হয়েছে। যদিও আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত মোট কর্মীর সংখ্যা ৮,৫৫৫ জন।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, যাদের নাম পাঠানো হয়েছে, সেই ৮,৫৫৫ জন গ্রুপ-বি স্তরের অফিসারকে অবশ্যই সোমবার বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (ডিআরও) কাছে রিপোর্ট করতে হবে। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব রাজ্য সরকারের ওপর বর্তেছে।
পাশাপাশি আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশনের প্রয়োজনে বর্তমান ইআরও এবং এএআরও-দের বদল করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আবার কমিশন চাইলে উপযুক্ত মনে হওয়া আধিকারিকদের দিয়েই কাজ চালাতে পারবে। এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা কমিশনের হাতেই থাকবে।
এছাড়াও, যেসব রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের নাম পাঠানো হয়েছে, তাঁদের বায়োডাটা প্রাথমিকভাবে যাচাই করার পর মাইক্রো-অবজার্ভার হিসেবে কাজ করার জন্য এক বা দুই দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে বলেও জানায় শীর্ষ আদালত।
এদিনের শুনানিতে রাজ্যের তরফে কর্মী দেওয়ার কথা শোনার পর প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে বলেন, “সমস্যা তো এখানেই। কর্মী দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাঁদের নামের তালিকা কোথায়? আমরা তো বলেছিলাম, বাংলা জানা কর্মী প্রয়োজন।”
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী জানান, জেলাভিত্তিক বিবরণ আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে কমিশনের আইনজীবী সেই দাবি নাকচ করে বলেন, ওই সংক্রান্ত কোনও তথ্য তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি।
এই অবস্থায় বিতর্কে না গিয়ে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, “এই বিষয় নিয়ে আর তর্ক চাই না। নামের তালিকা সংক্রান্ত বিষয়টি পরিষ্কার করতে আমাদের মুখ্যসচিবকে ডেকে পাঠাতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী দাবি করেন, রাজ্যের কাছে কর্মীদের নামের তালিকা রয়েছে এবং সব গ্রুপ ‘বি’ অফিসারই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জানতে চান, সেই তালিকা কমিশনের হাতে আদৌ তুলে দেওয়া হয়েছে কি না।
উত্তরে মমতার আইনজীবী জানান, প্রত্যেকের নাম-সহ পূর্ণাঙ্গ তথ্য দিতে কিছুটা সময় লাগবে। তখনই প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, এর অর্থ হল কর্মীদের নামের তালিকা এখনও সম্পূর্ণ প্রস্তুত নয়। সেই অবস্থায় ওই কর্মীরা কীভাবে ডিইও-র কাছে রিপোর্ট করবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।