তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার তাঁকে তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। তার আগে ২০২৪ সালে আসানসোলের নিম্ন আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নোটিস দেয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির নির্দেশ দেয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 February 2026 10:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার মামলার (Coal Smuggling Case) তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ মোড়। শীর্ষ আদালতের অনুমতি মিলতেই অনুপ মাজি ওরফে লালাকে (Anup Lala Majhi) নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার এই নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তদন্তকারী মহলের মতে, দীর্ঘদিনের আইনি জট কাটিয়ে এ বার তদন্তে গতি আসতে পারে।
লালা এই মামলার অন্যতম মূল অভিযুক্ত। অভিযোগ, একাধিক কয়লা খাদান থেকে বেআইনি উপায়ে কয়লা উত্তোলন ও পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, এই চক্র পরিচালনায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL), সিআইএসএফ (CISF) এবং রেলের একাংশের সহায়তা পাওয়া যেত। ইতিমধ্যেই তাঁর একাধিক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে সিবিআই।
তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার তাঁকে তলব করা হলেও হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। তার আগে ২০২৪ সালে আসানসোলের নিম্ন আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নোটিস দেয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির নির্দেশ দেয়।
যদিও পরবর্তী সময়ে শীর্ষ আদালত থেকে তিনি অন্তর্বর্তী সুরক্ষা পান। শর্ত ছিল, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে, নিম্ন আদালতের নির্দেশ মেনে চলতে হবে এবং নির্দিষ্ট এলাকা ছেড়ে যাওয়া যাবে না। এই সুরক্ষাকবচই সাম্প্রতিক সময়ে ইডির পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে সূত্রের খবর। হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে গেলে বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছিল। সেই আইনি জটিলতার অবসান হল।
এ বার ইডি সরাসরি হেফাজতে নিয়ে তাঁকে জেরা করতে পারবে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, আর্থিক লেনদেন ও পাচার চক্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে।
পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের নিতুরিয়া এলাকার ভামাড়িয়ায় জন্ম অনুপ মাজির। শুরুর জীবনে আর্থিক অনটন ছিল। মাছের ব্যবসা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে কাজের সূত্রে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের সালানপুর এলাকায় চলে যান। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সেখান থেকেই কয়লাপাচার চক্রে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা শুরু।
সিবিআইয়ের চার্জশিটে জয়দেব মণ্ডল ও বিনয় মিশ্রের নামও উঠে এসেছে। কোটি কোটি টাকার বেআইনি কয়লা লেনদেনে তাঁদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের সঙ্গে এই চক্রের যোগাযোগ ছিল। জেলা থেকে রাজ্য স্তর - একাধিক স্তরে প্রভাব খাটানো হত বলেও অভিযোগ।
বিনয় মিশ্র দীর্ঘদিন ধরে পলাতক বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার। তিনি বর্তমানে বিদেশে রয়েছেন। জয়দেব মণ্ডল গ্রেফতার হয়ে কারাবাস করলেও এখন জামিনে মুক্ত। এত দিন পর্যন্ত লালাকে হেফাজতে নিতে পারেনি কেন্দ্রীয় সংস্থা। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে সেই অধ্যায়ের ইতি টানার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।