
শেষ আপডেট: 7 February 2024 13:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেধা তালিকায় নাম রয়েছে অথচ চাকরি পাননি। এমন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের জন্য ১৬ হাজার সুপার নিউমোরারি পোস্ট তৈরি করেছে রাজ্য। প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ওয়েটিং লিস্টে নাম থাকা চাকরিপ্রার্থীদের পাশাপাশি যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁদেরও ওই লিস্টে আনতে হবে।
রাজ্যের এই নির্দেশ নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। আগামী সোমবারের মধ্যে এ ব্যাপারে রাজ্য এবং এসএসসি কে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রসঙ্গত এই মামলায় এর আগে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতির ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে মামলা হয়। সেখান থেকে মামলাটি এখন সুপ্রিমকোর্টের বিচারাধিন। অন্যদিকে এই সুপার নিউমোরারি পোস্ট তৈরি নিয়েই পৃথক একটি মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর এজলাসে।
এদিন এজলাসে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “এই পোস্টটা তৈরি হয়েছে চাকরিহারাদের চাকরি দেওয়ার জন্য। এই শিক্ষকদের জন্য চিন্তিত নয়। কারণ, তাঁরা চাকরি পাওয়ার জন্য ঝুলোঝুলি করবে, তারপর বলবে আমাকে বাড়ির কাছে বদলি দাও। আজকে উৎসশ্রী, কাল শুভশ্রী বলে আবেদন করবে! পিএফ, বেতন-সহ একাধিক বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাবে। আসল কাজ পড়াবে না। এদিকে ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
এরপরই রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তর উদ্দেশে বিচারপতি বলেন, “আমি এই ধরনের মামলা শুনি তো বুঝি। ওদের একটা সিম্পল ম্যাচ টেস্ট নাও, দেখবে কী ফল করে!”
এজি বলেন, “এই পোস্টটা তৈরি হয়েছে ওয়েটিং লিস্টের ক্যান্ডিডেটদের জন্য।” বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে এই পোস্টের বিজ্ঞপ্তিতে কেন লেখা ছিল, ওয়েটিং লিস্টের ক্যান্ডিডেটদের পাশাপাশি যাদের চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁদেরও ওই লিস্টে নিতে হবে? এই সিদ্ধান্ত নিতে কার কার অনুমোদন লাগে? কী জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল? কেন সেখানে চাকরিহারাদের চাকরির মেয়াদ নষ্ট না করার কথা বলা হয়েছে।”
আগামী সোমবার মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিন এ ব্যাপারে রাজ্য এবং এসএসসিকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।