দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৩০ এপ্রিল থেকে রাজ্যের স্কুলগুলিতে গরমের ছুটি ঘোষণা করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, বৃহস্পতিবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানালেন তিনি।
চৈত্র মাসের এখনও ১২ দিন মতো বাকি আছে। এখনই প্রখর দাবদাহে অতিষ্ঠ গোটা রাজ্য। জল্পনা শুরু হয়েছিল, এবছরও কি নির্ধারিত সময়ের আগেই গরমের ছুটি ঘোষণা করা হবে! শিক্ষামহলে এই নিয়েই জোর আলোচনা চলার মধ্যেই আজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের বছরগুলির মতোই আগেভাগে ছুটি ঘোষণা করে দিলেন।
শিক্ষা দফতরের সূচি জানিয়েছিল, এ বছর গরমের ছুটি ১২ মে থেকে শুরু হয়ে ২৩ মে পর্যন্ত চলবে। অর্থাৎ, মাত্র ১১ দিনের জন্য স্কুল বন্ধ থাকবে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মতো গ্রীষ্মপ্রধান রাজ্যে এত কম সময়ের ছুটি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শিক্ষকরা। আজ মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরে, ১২ দিন এগিয়ে এল ছুটি।
গত বছরও নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ৯ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত ছুটি থাকার কথা থাকলেও, তীব্র দাবদাহের কারণে ২১ এপ্রিল থেকেই স্কুল বন্ধ হয়ে যায় এবং ২ জুন পর্যন্ত তা স্থায়ী হয়। ফলে, প্রায় দু’মাস স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্রদের পড়াশোনায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এবারও ছুটি শুরু হয়ে যাচ্ছে ৩০ এপ্রিল থেকে। কবে স্কুল খুলবে, তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি।
শিক্ষকদের বড় অংশ গরমের ছুটির সময় বাড়ানোর বদলে স্কুলের সময় বদলের পক্ষপাতী। তাঁদের মতে, সকাল সকাল ক্লাস শুরু হলে গরমের কষ্টও কমবে, আবার পড়াশোনাতেও বাধা হবে না। কারণ টানা এক-দেড় মাস স্কুল বন্ধ থাকার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষত, যারা প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থী, তারা স্কুলেই মূলত পড়াশোনা শেখে। দীর্ঘ বিরতির পর স্কুল খুললে দেখা যায়, অনেক ছাত্র আগের শেখা বিষয় ভুলে গেছে। এছাড়া, দীর্ঘ ছুটির আর একটি বড় সমস্যা হল মিড-ডে মিল প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়া।