বাংলায় বিধানসভা ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, ততই জোরদার হচ্ছে রাজনৈতিক প্রচার। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় সভা শুরু করেছে সব দল। তৃণমূল কংগ্রেসও ব্যতিক্রম নয়। গত কয়েক দিনে একাধিক জেলায় সভা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই সফরকেই ইস্যু করে শাসকদলকে আক্রমণ করেন সুকান্ত।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুকান্ত মজুমদার
শেষ আপডেট: 22 January 2026 16:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কয়লা পাচার মামলা (Coal Smuggle Case) থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) - রাজ্যজুড়ে ইডি ও সিবিআইয়ের ধারাবাহিক অভিযানে (ED-CBI Raid) ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। সাম্প্রতিকতম উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে আইপ্যাক সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (IPAC Pratik Jain) বাড়ি ও অফিসে ইডি হানার (IPAC ED Raid) ঘটনা। সেই অভিযানের দিনভর নাটক রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তোলে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisekh Banerjee) বিরুদ্ধে কটাক্ষ শানালেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।
বাংলায় বিধানসভা ভোটের দিন যত এগোচ্ছে, ততই জোরদার হচ্ছে রাজনৈতিক প্রচার। ইতিমধ্যেই জেলায় জেলায় সভা শুরু করেছে সব দল। তৃণমূল কংগ্রেসও ব্যতিক্রম নয়। গত কয়েক দিনে একাধিক জেলায় সভা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। সেই সফরকেই ইস্যু করে শাসকদলকে আক্রমণ করেন সুকান্ত।
এক জনসভা থেকে বিজেপি নেতা বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এখন বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিন্তু লাভ হচ্ছে না। সুকান্তর দাবি, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও একের পর এক জেলায় যাচ্ছেন। আমাদের জেলাতেও কিছুদিন আগে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর সভায় লোক হচ্ছে না। পুলিশ-প্রশাসনকে ব্যবহার করেও মাঠ ভরাতে পারছেন না।”
সুকান্তের আরও দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির (ED) ভয়ে কলকাতায় থাকছেন না। তাঁর ভাষায়, “ভয় পাচ্ছেন, যদি ইডি কান ধরে তুলে নেয়! তাই ভাবছেন, এদিক-ওদিক ঘুরলে বেঁচে যাবেন। কিন্তু বিজেপি ছাড়বে না। ট্রিটমেন্ট বিজেপিই করবে।”
এই মন্তব্যের সূত্র ধরে ফের উঠে আসে পুরুলিয়ার সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগের বক্তব্য। সেখানে তিনি বিজেপিকে ‘আলসার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, সঠিক চিকিৎসা না হলে সেই আলসার ক্যানসারে পরিণত হবে। সেই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, “আসল ক্যানসার তৃণমূল কংগ্রেস। তারা ২৬ হাজার মানুষের চাকরি খেয়েছে, ৮,২০০ স্কুল বন্ধ করে দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের প্রায় ৭০ লক্ষ মানুষ আজ ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিজেপি নেতা আশ্বাস দেন, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে আর কাউকে রাজ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে না। চাকরিপ্রার্থীদেরও রাস্তায় বসে আন্দোলন করতে হবে না বলে দাবি তাঁর। সুকান্তর কথায়, “উন্নয়ন যা করার, বিজেপিই করবে। তবে তার আগে রাজ্যের বর্তমান শাসক দলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।”
ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান ও পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে আরও চড়বে, তা বলাই বাহুল্য।