প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতির দাবি, 'যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও যারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তাহলে প্রথমেই প্রশ্ন উঠবে যারা টাকা দিল তাঁরা অপরাধী আর যারা ঘুষ নিল তাঁরা কি সাধু?যারা ঘুষ নিয়েছে তাঁদের নামের তালিকা কোথায়?'

সুকান্ত মজুমদার (ফাইল চিত্র)
শেষ আপডেট: 31 August 2025 01:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বহু টালবাহানার পর অবশেষে শনিবার রাত ৮টা নাগাদ 'দাগি'দের তালিকা প্রকাশ করল এসএসসি (SSC)। দেড় হাজারের বেশি নাম রয়েছে সেই তালিকায়। তবে 'ঘুষ' দিয়েছেন বলে শুধু কি তারাই অপরাধী? এই প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)।
তিনি বলেন, 'সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায়ে এতদিন পর নাম প্রকাশ করা হল। প্রথমে একবার নাম প্রকাশ করেও সরিয়ে দেওয়া হল। আবার এখন অফিসিয়াল টাইম চলে যাওয়ার পর ১,৮০৪ জনের নাম দেওয়া হল। সরকার চলছে নাকি মসকরা চলছে, বোঝার উপায় নেই।'
প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতির দাবি, 'যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও যারা টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, প্রথমেই প্রশ্ন উঠবে যারা টাকা দিল তাঁরা অপরাধী আর যারা ঘুষ নিল তাঁরা কি সাধু? যারা ঘুষ নিয়েছে তাঁদের নামের তালিকা কোথায়?'
নাম প্রকাশ হওয়া 'দাগি' চাকরিহারাদের কাছে সুকান্ত মজুমদারের অনুরোধ, 'কোথায় কোন নেতাদের কত টাকা দিয়েছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ করুন। আমরা জেলায় জেলায় টাঙাব।' যোগ করেন, 'জনতার জানা উচিত, তাঁর বাড়ির পাশে তৃণমূলের কোন চোরটা আছে। টাকা দেওয়ার সুযোগ ছিল। তাই তাঁরা গেছে। যারা ঘুষ নিয়েছেন তাঁরা ২০০ শতাংশ দোষী।'
এসএসসি-র (SSC) ২৬ হাজার (26000 Job Cancel) চাকরি বাতিল মামলায় সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) নির্দেশ দিয়েছিল ৭ দিনের মধ্যে অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ (SSC Tainted List) করতে হবে।
শুক্রবারই জানা গেছিল, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে আজই তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু দুপুর গড়িয়ে বিকেল চলে যায়, সম্ভাব্য সময় সন্ধ্যে ৭টা বেজে গেলেও তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। অবশেষে আটটা নাগাদ আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ১ হাজার ৮০৪ জনের তালিকা প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। কমিশনের ওয়েবসাইটে 'দাগি'দের নাম, রোল নম্বর ও সিরিয়াল নম্বর দিয়ে তালিকা আপলোড করা হয়।
আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। সুপ্রিম কোর্ট এসএসসি-কে স্পষ্টত জানিয়েছে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নজর রাখা হচ্ছে। কোনও ভুল-ত্রুটি হলেই হস্তক্ষেপ করা হবে। কড়াভাবে এও বলা হয়েছে, অযোগ্যরা পরীক্ষায় বসলে ফল ভুগতে হবে।
তবে এই পরীক্ষা স্থগিত করার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। দাবি ছিল, তাঁরা যোগ্য, কিন্তু এখনও অনেক অযোগ্যকে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতেই এসএসসি-র কাছে অযোগ্যদের তালিকা চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।