বিধানসভা ভোটের আগে ঠাকুরবাড়ির দুই ভাইয়ের দূরত্ব বাড়ছে, বিজেপির অন্দরে অস্বস্তি।

সুব্রত ও শান্তনু ঠাকুর।
শেষ আপডেট: 5 November 2025 12:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঠাকুরবাড়ির অন্দরের দ্বন্দ্ব যেন ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে!
মতুয়া রাজনীতির দুই মুখ—শান্তনু ও সুব্রত ঠাকুর (Subrata Thakur, Santanu Thakur)—এবার আর এক মঞ্চে নেই। বহুদিন ধরে ফিসফাস চলছিল, ঠাকুরনগরে দুই ভাইয়ের সম্পর্কে নাকি চিড় ধরেছে। মঙ্গলবার সেই জল্পনাই সত্যি হল। গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন নতুন মতুয়া সংগঠন (New Matua Organization)—‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘ’-এর নতুন কমিটি।
এতদিন ঠাকুরনগরের একই রেজিস্ট্রেশনে দুটি মতুয়া সংগঠন সক্রিয় ছিল। একটির নেতৃত্বে ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর, অন্যটির মাথায় বিজেপির সাংসদ শান্তনু ও বিধায়ক সুব্রত। কিন্তু এবারে সেই একই রেজিস্ট্রেশনে গঠিত হল তৃতীয় সমান্তরাল কমিটি—যার ঘোষক সুব্রত ঠাকুর।
নতুন কমিটির প্রধান সেবায়েত হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে বাবা মঞ্জুল কৃষ্ণ ঠাকুর ও মা ছবি রানি ঠাকুরের। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক উপদেষ্টা মণ্ডলীতে, প্রথমেই নাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর! সঙ্গে রয়েছেন বিজেপির একাধিক বিধায়ক—অসীম সরকার, অশোক কীর্তনীয়া, স্বপন মজুমদার প্রমুখ।
নতুন সংগঠন ঘোষণা করে সুব্রত ঠাকুর বলেন, “কোটি কোটি মতুয়া রয়েছেন! তিনটে কেন, প্রয়োজনে পাঁচটি কমিটি হবে। সমাজের জন্য কাজ করতেই এই নতুন সংগঠন।”
দুই ভাইয়ের দূরত্বের প্রশ্নে তাঁর মন্তব্য, “দূরত্ব ভাইদের মধ্যে নয়, সংগঠনের দালালদের সঙ্গে। তাদের সরাতে না পেরে নতুন সংগঠন গড়তে হয়েছে।”
এ ব্যাপারে শান্তনুর সাবধানী প্রতিক্রিয়া: ““ঠাকুরবাড়িতে প্রত্যেকেরই নিজের সংগঠন গড়ার অধিকার রয়েছে। আমি চাই না কেউ বঞ্চিত হোন। নতুন সংগঠন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠুক, সেই কামনা করি।”
মমতাবালা ঠাকুরের নেতৃত্বাধীন মতুয়া মহাসংঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ চৌধুরী বলেন, “পরিবার বড় হয়েছে, তাই সংগঠন ভাগ হয়েছে। তবে একসঙ্গে থাকা গেলে আরও ভাল হত। এখন লড়াই আসলে ঠাকুরবাড়ির নিয়ন্ত্রণ আর বিজেপির ভেতরের ভারসাম্য নিয়ে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ফাটল শুধু পারিবারিক নয়—বিজেপির অভ্যন্তরেও চাপ বাড়াচ্ছে। ভোটের আগে মতুয়া ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলতে পারে এই নতুন ‘ভাই বনাম ভাই’ অধ্যায়।