অর্থোপেডিক সার্জারির ক্ষেত্রে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ, এই হাড় ব্যাঙ্ক চালু হলে দুর্ঘটনা, হাড়ের ক্যান্সার বা অন্য কোনো কারণে হাড় হারানো রোগীদের পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 4 November 2025 13:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত। কলকাতার এসএসকেএম (SSKM, Kolkata) হাসপাতালেই খুলতে চলেছে রাজ্যের প্রথম ‘বোন ব্যাঙ্ক’ বা হাড়ের ব্যাঙ্ক (Bones , donated)। সূত্রের খবর, নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে এই আধুনিক পরিকাঠামোর।
অর্থোপেডিক সার্জারির ক্ষেত্রে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। কারণ, এই হাড় ব্যাঙ্ক চালু হলে দুর্ঘটনা, হাড়ের ক্যান্সার বা অন্য কোনো কারণে হাড় হারানো রোগীদের পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে (a new ray of hope for cancer patients)।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর শরীর থেকে অপসারিত হাড়গুলি এত দিন জৈব বর্জ্য হিসেবে ফেলে দেওয়া হত। এবার থেকে সেগুলি জীবাণুমুক্ত করে বিশেষ শীতল রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা হবে, যা মাইনাস ৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা বজায় রাখতে সক্ষম। ইতিমধ্যেই দুটি উন্নতমানের ফ্রিজ বসানো হয়েছে।
এসএসকেএম হাসপাতালের পরামর্শদাতা অর্থোপেডিক অঙ্ক সার্জন ড. কৌশিক নন্দী বলেন, “দুর্ঘটনায় অঙ্গ হারানো বা হাড়ের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে জৈবিক টিস্যু ব্যবহার করে হাড় পুনর্গঠন অনেক বেশি কার্যকর। কৃত্রিম ধাতব ইমপ্লান্টের তুলনায় এটি শরীরের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে যায়।”
ড. নন্দীর দাবি, জীবাণুমুক্ত হাড় একবার সংরক্ষণ করা হলে তা পাঁচ বছর পর্যন্ত ব্যবহারযোগ্য থাকে। মস্তিষ্ক-মৃত দাতাদের কাছ থেকেও হাড় সংগ্রহ করা হবে, যদি তাঁদের সংক্রামক রোগ না থাকে। রক্তের গ্রুপ মেলানোর প্রয়োজন না থাকায় প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ।
তাছাড়া, হাঁটু বা নিতম্ব প্রতিস্থাপন করানো জীবিত রোগীরাও চাইলে তাঁদের অস্ত্রোপচারে অপসারিত হাড় ব্যাঙ্কে দান করতে পারবেন।
চিকিৎসক মহল এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, “এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। জৈবিক হাড়ের টিস্যু ধাতব উপাদানের তুলনায় শরীরের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে যায়, রোগীর সেরে ওঠাও অনেক দ্রুত হয়।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আপাতত এই হাড় ব্যাঙ্কের সংরক্ষিত হাড় শুধুমাত্র এসএসকেএম হাসপাতালের রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে রাজ্যের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেও এই সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।