
শেষ আপডেট: 10 November 2023 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর : কালীর রূপে সজ্জিত এক তরুণীর মুখে জ্বলন্ত সিগারেট, একটি তথ্যচিত্রের এই পোস্টারই ছিল বিতর্কের উৎস। ২০২২ সালের জুলাই মাসে এই পোস্টারকে ঘিরে তেতে উঠেছিল বাংলা। এই নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মহুয়া মৈত্র বলেছিলেন, “আমার কাছে কালী মানে যিনি মাংস আর মদ খান। নিজের ভগবানকে তুমি কীভাবে দেখতে চাও তা কল্পনা করার অধিকার রয়েছে। কিছু জায়গা রয়েছে যেখানে ভগবানকে হুইস্কি দেওয়া হয়, আবার কিছু কিছু জায়গায় তা ভগবানের অপমানের সমান।"
কৃষ্ণনগরের সাংসদের সেই মন্তব্যের পরেই তথ্যচিত্রের পোস্টার বিতর্কের অভিমুখ বদলে যায়। রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল শোরগোল পড়ে। বিরোধী শিবির থেকে একের পর এক আক্রমণের নিশানা হন মহুয়া মৈত্র এবং তৃণমূল কংগ্রেস। এমনকি রাজ্যের একাধিক থানায় মহুয়ার নামে অভিযোগও দায়ের হয়। পরিস্থিতির চাপে তৃণমূলের তরফ থেকেও ট্যুইট করে জানিয়ে দেওয়া হয় দলের অবস্থান। স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, সাংসদের ওই মন্তব্য একান্তই তাঁর ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই।
সময়ের নিয়মে থিতু হয়ে যাওয়া সেই বিতর্কই শুক্রবার ফের সামনে আনলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। ঘুষকাণ্ডে জেরবার সাংসদ। শুধু সাংসদ পদ যাওয়া নয়, তাঁকে গ্রেফতারেরও দাবি উঠছে। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গতবছর কালীপুজোর আগে মা কালী মদ খায় নেশা করে বলেছিলেন। এবছর কালীপুজোর আগে তার ফল পেয়ে গেলেন। শুধু সাংসদ পদ খারিজ নয় ওঁকে জেলে দেখতে চাই।”
এদিন নন্দীগ্রাম দিবসে শহিদ স্মরণ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুরু থেকেই রাজ্যের বিরুদ্ধে সুর চড়ান। কখনও নিশানা করেন মমতার মন্ত্রিসভাকে, তো কখনও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা মহুয়ার প্রসঙ্গ উঠতেই সেই কালীকেই টেনে আনলেন তিনি।