রাজনৈতিক চাপানউতরের পটভূমিতে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশ। সোমবার শীর্ষ আদালত রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যাঁরা নথি জমা দেবেন, তাঁদের রসিদ দিতে হবে।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 20 January 2026 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন নির্বাচনে চোরেদের সরকারকে হারাতে হবে - এই ডাক দিয়েই ধুবুলিয়ার জনসভা থেকে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এসআইআর (West Bengal SIR) ইস্যুকে সামনে রেখে তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে কটাক্ষ করেন এবং দাবি করেন, নির্বাচন কমিশনের (ECI) পদক্ষেপ এখনও শুরু মাত্র। তাঁর কথায়, “ব্রেকফাস্ট হয়ে গেছে, ১৪ তারিখ লাঞ্চ হবে।”
এই রাজনৈতিক চাপানউতরের পটভূমিতে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সাম্প্রতিক নির্দেশ। সোমবার শীর্ষ আদালত রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র (Logical Discrepency) তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং যাঁরা নথি জমা দেবেন, তাঁদের রসিদ দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের পরই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) মন্তব্য করেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন “সুপ্রিম কোর্টের থাপ্পড় খেয়েছে”। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, আদালতে যেমন জয় এসেছে, তেমনই এপ্রিলের ভোটেও জয় পাবে তৃণমূল।
ধুবুলিয়ার সভা থেকে অভিষেকের এই মন্তব্যের পাল্টা দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেননি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নাম না করেই তিনি বলেন, “অর্ডার এখনও আপলোড হয়নি, তার আগেই বলা হচ্ছে কোর্টে জিতে গেছি, ভোটেও জিতে যাব। জিততে দেব না। বাংলার মানুষই জবাব দেবে।” শুভেন্দুর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে তৃণমূল মিথ্যে প্রচার করছে।
বিজেপি বিধায়ক আরও বলেন, সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, “হু হু করে ছারপোকার মতো ঢুকছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সবে ট্রেলার দেখিয়েছে। ব্রেকফাস্টে ৫৮ লক্ষ, লাঞ্চ হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। সেদিন বুঝবে যারা এখন লাফাচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, যেভাবেই হোক বর্তমান সরকারকে উৎখাত করাই বিজেপির লক্ষ্য।
অন্যদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দাবি করেছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট তৃণমূলের বক্তব্যকে মান্যতা দিয়েছে। তাঁর কথায়, “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে বলেছে আদালত। দু’গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে সর্বোচ্চ আদালত।” এখানেই থামেননি তিনি। অভিষেকের দাবি, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২৫০-র বেশি আসনে জিতবে এবং বিজেপি ৫০-এর নিচে নেমে যাবে। তাঁর বক্তব্য, “বাংলার মানুষ বশ্যতা স্বীকার করতে জানে না, মেরুদণ্ড বিক্রি করতে জানে না।”
এসআইআর প্রসঙ্গে অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিকভাবে তৃণমূলকে মোকাবিলা করতে না পেরে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও মিডিয়াকে ব্যবহার করে বাংলার বদনাম করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’-র নোটিস পাঠিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করার চেষ্টা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে এসআইআর আতঙ্কে গত দু’মাসে প্রায় ৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে ঘিরে এসআইআর বিতর্ক এখন সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ময়দানে। একদিকে তৃণমূলের দাবি - আদালতের নির্দেশ তাদের পক্ষে, অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, এই নির্দেশ নিয়েই বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনের মুখে এই সংঘাত যে আরও তীব্র হবে, তা বলাই বাহুল্য।