এই ঘোষণার পরই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে খোঁজ শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। কে আবেদন করতে পারেন? কী কী সুবিধা মেলে? কত টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়? চার বছরে চিত্র কী বলছে?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 15:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছে কংগ্রেস তথা ডানপন্থী রাজনীতি দিয়ে। কিন্তু ২০০৬ সালে সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অনেকে আবিষ্কার করেন যে, তাঁর সহজাত রাজনীতির ধারা যেন ঠিক ডানপন্থা নয়। বরং ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে অনেকে বলতে শুরু করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বামেদের থেকেও বেশি বামপন্থী। সামাজিক সুরক্ষার জন্য কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, সবুজ সাথী, স্বাস্থ্য সাথী, লক্ষ্মীর ভান্ডারের মতো — একের পর এক প্রকল্প শুরু করেছেন তিনি। সেই তালিকায় এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা উঠেছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পও (student credit card West Bengal)।
২০২১ সালের ৩০ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন—অর্থাভাবে যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীর উচ্চশিক্ষা থমকে না যায়। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী টুইটে জানিয়েছেন, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড স্কিমে অনুমোদিত ঋণের সংখ্যা ১ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের আরও একটি মঞ্চ তৈরি হয়েছে বলেই মত তাঁর।
এই ঘোষণার পরই প্রকল্প ঘিরে নতুন করে খোঁজ শুরু হয়েছে সমাজমাধ্যমে। কে আবেদন করতে পারেন? কী কী সুবিধা মেলে? কত টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যায়? চার বছরে চিত্র কী বলছে?
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রকল্প চালুর কয়েক দিনের মধ্যেই জমা পড়েছিল প্রায় ২৬ হাজার আবেদন। প্রতিটি শিক্ষাবর্ষে ২৫ থেকে ২৬ হাজার আবেদন জমা পড়ছে। সরকারি নথি বলছে— স্রেফ চলতি অর্থবর্ষে ২৯ অগস্ট পর্যন্ত ১৯,৪৭১ জন এই ঋণ পেয়েছেন। শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ১ লক্ষেরও বেশি ছাত্র এই কার্ড মারফৎ শিক্ষা ঋণ পেয়েছেন।
২০২৫ সালের বাজেটে জানানো হয়েছিল, এই আর্থিক বছরে ৮০ হাজার শিক্ষার্থীর ঋণ অনুমোদনের পরিকল্পনা ছিল। নবান্ন সূত্রে বলা হয়েছে, গড়ে ৩ লাখ টাকা করে ঋণ নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। যদিও সর্বোচ্চ সীমা— ১০ লাখ।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ন্যূনতম যোগ্যতা— ১০ম শ্রেণি। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, ডিপ্লোমা, পেশাগত কোর্স, এমনকি কোচিং (যেমন UPSC/WBCS/JEE/NEET)–এর ক্ষেত্রেও আবেদন করা যায়। তবে শর্ত একটাই আবেদনকারীর বয়স হতে হবে ৪০ বছরের নিচে। এছাড়া পরিবারকে কমপক্ষে ১০ বছর পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে হবে।
কোন কোন খাতে ঋণ পাওয়া যায়?
এই শিক্ষাঋণে কভার করা হয় প্রায় সব প্রয়োজনীয় খরচ, টিউশন ফি, ভর্তি ফি, কোচিং ফি, হোস্টেল/ভাড়া, বই–খাতা, ল্যাপটপ/কম্পিউটার, ল্যাব–ফি এবং পরীক্ষা ফি।
সুদ, গ্যারান্টি, পরিশোধ—সব কিছু এক ঝলকে
সুদ: ৪% (Simple Interest), কোর্স চলাকালীন সুদ নিয়মিত জমা দিলে আরও ১% ছাড়। ঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা কোনও জামানত বা গ্যারান্টর লাগে না— অভিভাবক থাকলেই যথেষ্ট। পরিশোধের সময়: ১৫ বছর
ফলে পড়ুয়া সমাজের কাছে এই প্রকল্প ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। কারণ, আর্থিকভাবে দুর্বল পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠেছে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড।