দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার হরিয়ানা (Haryana) থেকে একটি ভিডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে দেখা যায়, কারনাল জেলার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট একদল পুলিশকর্মীকে বলছেন, কেউ যেন ব্যারিকেড না ভাঙে। যদি কেউ সেই চেষ্টা করে, তাঁদের মাথায় আঘাত করতে হবে। ওই ভিডিও দেখে হরিয়ানা সরকারের নিন্দায় মুখর হয় নানা মহল। সোমবার পুলিশের পক্ষেই দৃঢ়ভাবে দাঁড়ালেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। তিনি বলেন, পুলিশের কড়া হওয়া দরকার ছিল। সেইসঙ্গে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মেনে নেন, পুলিশকর্তার ওই ধরনের ভাষা ব্যবহার করা ঠিক হয়নি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ওই অফিসারের শব্দপ্রয়োগে আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কড়া হতে হয়।”
শনিবার বিজেপির হরিয়ানা রাজ্য শাখার প্রধান ও পি ধনকরের কনভয় আটকান কৃষকরা। ভিডিও ক্লিপে দেখা গিয়েছে, কারনাল জেলার সাব ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট আয়ুষ সিনহা পুলিশদের বলছেন, "আমার নির্দেশ খুবই সহজ ও স্পষ্ট। আমরা কোনওভাবেই ব্যারিকেড ভাঙতে দেব না। লাঠি দিয়ে তাদের মার লাগাবে। কারও নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করার দরকার নেই। খুব জোরে মারবে। যদি একজনও বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড টপকে ঢুকে পড়ে, আমি চাই, তার মাথা যেন ফাটিয়ে দেওয়া হয়।" এরপরে আয়ুষ সিনহা জিজ্ঞাসা করেন, "এনি ডাউট?" কারও কোনও সন্দেহ আছে। পুলিশকর্মীরা সমস্বরে বলেন, "নো স্যার।"
লাঠিচার্জের পরে পুলিশ জানায়, রাস্তা থেকে অবরোধ ওঠাতে মৃদু লাঠিচার্জ করা হয়েছে। বিজেপির সাংসদ বরুণ গান্ধীও ওই ভিডিও দেখে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, আশা করি ওই ভিডিও বিকৃত করা হয়েছে। ডিএম নিশ্চয় অমন কথা বলেননি। কিন্তু তা যদি না হয়, তাহলে বলতে হবে, গণতান্ত্রিক দেশে নাগরিকদের ওপরে ওইভাবে লাঠিচার্জ করতে বলা যায় না।
কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীকে সম্বোধন করে বলেন, খট্টর সাহেব, আপনি হরিয়ানার আত্মার ওপরে লাঠি চালিয়েছেন। আগামী প্রজন্ম মনে রাখবে, রাস্তায় কৃষকের রক্ত ঝরেছিল।
শনিবার বিকালে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, রাস্তার ওপরে খাটিয়া পেতে বসে আছেন কৃষকরা। এদিকে তিন কিলোমিটার জুড়ে দাঁড়িয়ে আছে গাড়ি, বাস এবং ট্রাক। অপর একটি ক্লিপে দেখা যায়, হেলমেট পরা দুই পুলিশকর্মী এক ব্যক্তির সঙ্গে তর্ক করছেন। সেই ব্যক্তিকে দেখে মনে হচ্ছে, তিনি গুরুতর আহত। তৃতীয় একটি ভিস্যুয়ালে দেখা যায়, বড় সংখ্যক পুলিশ হেলমেট পরে দাঁড়িয়ে আছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'