সূত্রের খবর, চিঠির সত্যতা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে।

সুকান্ত মজুমদার।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 14:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘চাকরি চক্রে তৃণমূলের হাত’, দাবি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘গোপন চিরকুট’ পোস্ট করলেন বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। সেই চিঠি প্রকাশ্যে আসতেই দক্ষিণ দিনাজপুরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক হইচই। বণ্টন সংস্থার স্টেশন ম্যানেজারের (WBSEDCL) সিল ও সই-সহ ভাইরাল হওয়া চিরকুট নিয়ে তৃণমূলের অভিযুক্ত নেতাদের পাশাপাশি বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ভাইরাল হওয়া চিঠিটি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কুমারগঞ্জ-সহ দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে। ওই ‘চিরকুটে’সুকান্ত মজুমদারের দাবি, কুমারগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল এবং জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মফিজউদ্দিন মিঁয়ার সুপারিশে ৬ লক্ষ ৫২ হাজার টাকার বিনিময়ে একজনকে WBSEDCL-এ চাকরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, বিজেপি নেতা সুশীল মার্ডির বিরুদ্ধে মিথ্যা বিদ্যুৎ চুরির মামলা রুজু করা হয়।
তবে বিদ্যুৎ দফতরের স্টেশন ম্যানেজার নাজিমুল হক এই চিঠিকে সম্পূর্ণ জাল বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘আমার সিল ও সই জাল করে এই চিঠি বানানো হয়েছে। কোনও নিয়োগ হয়নি, এমন কোনও সুপারিশও আসেনি।’’ WBSEDCL-এর দক্ষিণ দিনাজপুর রিজিয়নাল ম্যানেজার শুভময় সরকার বলেন, “আমি নাজিমুলবাবুর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনিও বলছেন, এই চিঠির কোনও ভিত্তি নেই। তিনিও আদালতের দ্বারস্থ হবেন।”
অন্যদিকে, চিঠিতে নাম জড়ানো তৃণমূল নেতা মফিজউদ্দিন মিঁয়া সুকান্ত মজুমদারকে উদ্দেশ করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সাংসদ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন। আমি তাঁর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব।”

তবে সুকান্ত মজুমদার তাঁর অবস্থানে অনড়। তিনি টুইটে লেখেন, “স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের সুপারিশে কী ভাবে বিরোধী কর্মীদের উপরে বিদ্যুৎ চুরির মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে, সেই সঙ্গে কী ভাবে চাকরির জন্য ঘুষ নেওয়া হচ্ছে, তা জনসমক্ষে আনার সময় এসেছে। যদি ব্যবস্থা না হয়, তাহলে আমরা কঠোর আইনি পথে হাঁটব।”
তৃণমূল শিবির বলছে, ‘‘সুকান্ত মজুমদার জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন, কারণ বিজেপির পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে।’’ তবে রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে চিঠির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরের আঁচ ইতিমধ্যেই পৌঁছে গিয়েছে কলকাতায়। সূত্রের খবর, চিঠির সত্যতা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত শুরু হয়েছে।