‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের কোনও জায়গা নেই নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায়। এসএসসির নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া (SSC Recruitment Case) নিয়ে সোমবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিম।
শেষ আপডেট: 7 July 2025 17:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দাগি অযোগ্য’ প্রার্থীদের কোনও জায়গা নেই নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায়। এসএসসির নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া (SSC Recruitment Case) নিয়ে সোমবার এই নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
আদালতের এই নির্দেশ সামনে আসতেই ফের রাজ্যের বিরুদ্ধে অযোগ্যদের আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে সরব হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীদের অন্যতম দুই আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikasranjan Bhattacharya) এবং ফিরদৌস শামিম (Firdous Shamim)।
কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) সাফ নির্দেশ—এসএসসি-র (SSC New Notification) নতুন বিজ্ঞপ্তি মেনে চলবে নিয়োগ, তবে যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রমাণ রয়েছে বা যাঁদের নাম চাকরি বাতিল হওয়া তালিকায় রয়েছে, তাঁদের আবেদন বাতিল করতে হবে।
হাইকোর্টের এই রায় প্রসঙ্গে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "রাজ্য সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করেছিল, তাই আদালতে যাওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টও স্পষ্ট করে দিল যে দাগি অযোগ্যরা পরীক্ষায় বসতে পারবে না।"
আরও একধাপ এগিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আর এক আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, "অযোগ্যদের সঙ্গে সরকার যে রয়েছে সেটা তো পরিষ্কার। পরীক্ষার নামে এবারেও পিছনের দরজা দিয়ে তাদের চাকরি পাইয়ে চেষ্টা করেছিল সরকার। আদালত সেটা বুঝতে পেরেছে বলেই দাগি অযোগ্যদের আবেদন বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে।"
নিয়োগপ্রক্রিয়া চলবে এসএসসি-র ৩০ মে-র বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী। কিন্তু বিচারপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যাঁরা ইতিমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত, অথবা যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে আদালতের নির্দেশে, তাঁরা এই প্রক্রিয়ায় আবেদন করলেও তাঁদের আবেদনপত্র বাতিল করতে হবে। এই প্রসঙ্গে আদালত জানিয়েছে, ‘‘দাগি অযোগ্যদের কোনও ভাবেই ফের সুযোগ দেওয়া যায় না।’’
এসএসসি-র ২০২৫ সালের এই বিজ্ঞপ্তি ঘিরেই আদালতের দ্বারস্থ হন কয়েকজন প্রার্থী। তাঁদের দাবি ছিল—বিজ্ঞপ্তিতে প্রায় ৪৪ হাজার শূন্যপদের কথা বলা হলেও তা ২০১৬ সালের বাছাইবিধি মেনে হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ওই বছরের নিয়ম মেনে এবং ২০১৬ সালের প্রার্থীদের মধ্য থেকেই নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বয়সের ছাড়ের বিষয়টিও যথাযথ নয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
ঘটনার সূত্রপাত, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সিবিআই তদন্তে বহু অনিয়মের প্রমাণ মেলে। সুপ্রিম কোর্ট সেই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হওয়া প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে। সেই প্রেক্ষিতেই রাজ্য সরকার ও এসএসসি নতুন করে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। কিন্তু সেই বিজ্ঞপ্তির আইনসম্মততা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন কিছু চাকরিপ্রার্থী।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চালু থাকবে। কিন্তু যাঁদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বা যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের কোনও ভাবেই নিয়োগের সুযোগ দেওয়া যাবে না। সেই সঙ্গে এসএসসি-কে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে নিষ্ট সময়ের মধ্যেই।