বীরভূম জেলার অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অনুব্রত মণ্ডল সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসিকে কদর্য ভাষায় হুমকি দেন। তা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। গত শনিবারও বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপকে নিশানা করে অনুব্রত মণ্ডল তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।

শেষ আপডেট: 4 August 2025 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: অনুব্রতর (Anubrata Mondal) পর এবার পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী(Siddiqullah Chowdhury)। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিলেন মন্তেশ্বর থানা ঘেরাওয়ের। মন্তেশ্বর থানার আইসিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে চিহ্নিত করে গভীর রাতে গৃহস্থের বাড়িতে গিয়ে দরজা ঠোকা বন্ধ করারও বার্তা দিয়েছেন। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও এখন মন্তেশ্বরের বাসিন্দাদের ফোনে ফোনে ঘুরছে। তবে এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দ্য ওয়াল।
বীরভূম জেলার অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অনুব্রত মণ্ডল সম্প্রতি বোলপুর থানার আইসিকে কদর্য ভাষায় হুমকি দেন। তা নিয়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। গত শনিবারও বীরভূম জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপকে নিশানা করে অনুব্রত মণ্ডল তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, “মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে কালি লাগানো, একের পর এক তৃণমূল নেতা খুন ,এইসব আগে বীরভূমে ছিল না। এই পুলিশ সুপার আসার পর থেকেই এই সংস্কৃতি শুরু হয়েছে।" জানা গিয়েছে,অনুব্রতর পথ ধরে ওই শনিবার সন্ধ্যায় মন্তেশ্বর থানার আইসির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠেন মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী।
মন্তেশ্বর বিধানসভার অধীন মেমারির সাতগেছিয়া এলাকায় রয়েছে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর বিধায়ক কার্যালয়। 'পাড়ায় সমাধান’ কর্মসূচি নিয়ে শনিবার সেখানেই দলের নেতা ও কর্মীদের নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। আলোচনা শেষে মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী মন্তেশ্বর থানার আইসির বিরুদ্ধে সরব হন। একই সঙ্গে তিনি নাম না করে মন্তেশ্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমদ হোসেন শেখকেও নিশানা করেন। চলতি বছরের ৩ জুলাই নিজের বিধানসভা কেন্দ্রে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ও আহমদ হোসেন শেখের সম্পর্কের অবনতি হয়।
সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, 'যে যে ব্যক্তি মারধর করেছিল,তাদের বিরুদ্ধে আমি জেলার পুলিশ সুপার,জেলাশাসক, মুখ্যমন্ত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। এরা সব আসামি। আমি মন্তেশ্বরের মানুষের সঙ্গে আছি। আমি ধোঁকা দেওয়ার লোক নই। কাটমানি, মারামারি, দালালি-এসব আমি সহ্য করতে পারি না। এসব মুখ্যমন্ত্রী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতি ও আদর্শের বহির্ভূত কাজ।“
এইটুকু বলেই মন্ত্রীমশাই খান্ত হননি। তিনি বলেন,"আমার কাছে মন্তেশ্বর থানার আইসির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আসছে। শুনতে পাচ্ছি, রাতের অন্ধকারে মন্তেশ্বর থানার আইসি নিজে লোকের বাড়ির দরজায় লাঠি দিয়ে ঠকঠক করছে।ওইসব বাড়িতে যে যুবতী ও বয়স্ক মহিলারা রয়েছেন, তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে দরজা খুলছেন। দরজা ঠুকে কাউকে আইসি বলছেন-এই তোর স্বামী কোথায় ,আবার কাউকে বলছেন- এই তোর বাবা কোথায়। এটা কি কোন পুলিশের কাজ? থানার বড়বাবুর কাজ? এর থেকে তো গরু- ছাগল চরানো অনেক ভাল।" আইসি কে উদ্দেশ্য করে মন্ত্রীকে এও বলতে শোনা যায়,“কেন এইভাবে খাকি পোশাকের ও মুখ্যমন্ত্রীর বদনাম করছেন। আপনি দায়িত্ব পালন করতে না পারলে ছেড়ে দিন। ওই গুন্ডা প্রকৃতির নেতা যা বলছে ,তাই আপনি একতরফা ভাবে শুনছেন। যদি আপনি নিরপেক্ষ না হন, তাহলে বাধ্য হয়ে আমায় থানা ঘেরাওয়ের ডাক দিতে হবে। সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে,আঙুলটা বেঁকানোর জায়গায় চলে যাবে।"
মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর হুমকি, হুঁশিয়ারির কথা কানে গেলেও তা নিয়ে জেলা পুলিশের কেউ কিছু বলতে অস্বীকার করেন। একইভাবে রাজ্য নেতৃত্ব যা বলার বলবেন বলে পাশ কাটান জেলা তৃণমূল নেতারাও। তবে মন্ত্রীর এভাবে ক্ষোভ উগরে দেওয়া নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি জেলার বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র। তিনি বলেন, "বাংলার মুখ্যমন্ত্রীই পুলিশ মন্ত্রী। সেই পুলিশের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন রাজ্যের একজন ক্যাবিনেট মন্ত্রী। এর আগে বোলপুর থানার আইসিকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর দলের নেতা অনুব্রত মণ্ডল। এর থেকে বড় লজ্জার আর কী হতে পারে!