এই উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলের কাছে যেমন একটা বড় পরীক্ষা, তেমনি নির্বাচন কমিশনের কাছেও এটা একরকম অ্যাসিড টেস্ট। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি পশ্চিমবঙ্গে শেষ উপনির্বাচন। তাই কালিগঞ্জের ফলাফল ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণে একটা ইঙ্গিত দিতে পারে।
নজির গড়ে কালিগঞ্জ উপনির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। লাইভ স্ট্রিমিং, কেন্দ্রীয় বাহিনী, মোবাইল ফোনের নতুন নিয়ম—সবই শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে।

কালীগঞ্জে চলছে উপনির্বাচন।
শেষ আপডেট: 19 June 2025 09:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নদিয়া জেলার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল সাতটা থেকে শুরু হয়েছে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রাথমিকভাবে বৃষ্টির কারণে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও, দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটাররা আসতে শুরু করেন। এখনও পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট পর্ব এগোচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে কোথাও কোনও অশান্তির খবর মেলেনি।
বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ সকাল সকালেই তাঁর বুথে ভোট দিয়ে ফেলেন। ভোট দিয়ে বেরিয়ে তিনি জানান, ছাপ্পা ভোট নিয়ে তিনি বেশ চিন্তায় রয়েছেন। তার দাবি, এই উপনির্বাচনে কয়েকটি বুথে তাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, আর এই অভিযোগ সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যদিও জয়ের ব্যাপারে তিনি এখনও শতভাগ আশাবাদী। একইসঙ্গে তিনি চান, মানুষ যেন নিজের মত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারেন।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ২,৫২,৬৭০ জন। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১,৩০,৩৬৩ জন, মহিলা ভোটার ১,২২,৩০৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। একটি স্পেশাল সামারি রিভিশনের পর ৫,৮৪০ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে মূল তালিকা থেকে, যার ফলে ভোটারের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। শতাংশের হিসেবে এই হ্রাস -০.৮৭ শতাংশ।
এবারের উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের কিছু নজিরবিহীন পদক্ষেপ নজর কেড়েছে। আগে বুথের ভিতরে ওয়েব কাস্টিং থাকলেও এবার বুথের বাইরেও লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ক্যুইক রেসপন্স টিমের গাড়ির মাথায় এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের গাড়িতেও লাগানো হয়েছে ক্যামেরা, যা সারাদিন লাইভ স্ট্রিমিং চালাবে। উদ্দেশ্য একটাই—ভোটের দিন কোনও হিংসা বা অনিয়ম হলে, তা যেন সঙ্গে সঙ্গে নজরে আসে।
নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন হয়েছে ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ২,০০০ রাজ্য পুলিশ। রয়েছে ২০টি ক্যুইক রেসপন্স টিম ও ৮টি র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স ইউনিট। প্রতিটি কিউআরটি-তে থাকবেন ৮ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ও একজন এএসআই পদমর্যাদার আধিকারিক।
মোট ১৬২টি বুথে 'প্রেমাইসেস' বা ঘন বুথের বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ১ নম্বর প্রেমাইসেস বুথ ৬টি, ২ নম্বর ৬টি, ৩ নম্বর ২৫টি, ৪ নম্বর ৯টি এবং ৫ নম্বর ১টি। বুথের বাইরে ভোটারদের লাইনে দাঁড় করানো, ভিড় সামলানো বা শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্বে থাকছেন লাঠিধারী পুলিশ এবং NCC ও NSS-এর ছাত্রছাত্রীরা।
এবারই প্রথমবার কোনও ভোটার নিজের মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যেতে পারবেন। তবে বুথে ঢোকার আগে ফোন সুইচ অফ করে বুথ লেভেল অফিসারের কাছে জমা রাখতে হবে, আর ভোট দিয়ে ফেরার সময় সেই মোবাইল ফেরত নেওয়া যাবে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুথের ভিতরে একসঙ্গে চারজনের বেশি ভোটার থাকতে পারবেন না।
পশ্চিমবঙ্গে ভোট মানেই এতদিন ছিল সংঘর্ষ, ছাপ্পা, হিংসা আর উত্তেজনার ছায়া। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এই নতুন পদক্ষেপগুলি কি আগামী ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন কোনও দিশা দেখাতে পারবে? ইতিহাস বদলাবে কি আদৌ? এই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে শুধু সময়।