নতুন উদ্ভাবিত চারটি ভ্যারাইটির মধ্যে তিনটি, ‘সুভাষিণী’, ‘লছমন্তি’ ও ‘মুসাফির’— বিশেষ ভাবে তৈরি হয়েছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকার জন্য।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 20 January 2026 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: খরা আর বন্যা, দুই বিপরীত আবহাওয়ার চাপের মাঝেই বাংলার কৃষকদের জন্য এল স্বস্তির খবর। রাজ্যের আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপযোগী চারটি নতুন উচ্চফলনশীল ধানের (Four New Varieties of Rice) ভ্যারাইটি উদ্ভাবনের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার সোশ্যাল মাধ্যমে এই সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের কৃষি দফতরের দীর্ঘদিনের গবেষণার ফল হিসেবেই এই চারটি নতুন ধানের জন্ম। পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রে কয়েক বছর ধরে চলা পরীক্ষানিরীক্ষার পর এই সাফল্য মিলেছে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানী ও গবেষকদের আন্তরিক অভিনন্দনও জানিয়েছেন তিনি।
নতুন উদ্ভাবিত চারটি ভ্যারাইটির মধ্যে তিনটি, ‘সুভাষিণী’, ‘লছমন্তি’ ও ‘মুসাফির’— বিশেষ ভাবে তৈরি হয়েছে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের খরাপ্রবণ এলাকার জন্য। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার মতো জেলাগুলিতে খরিফ মরসুমে এই ধান হেক্টর প্রতি ৫২ থেকে ৫৫ কুইন্টাল পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে। কম বৃষ্টিতেও যাতে চাষিদের উৎপাদনে বড় ধাক্কা না লাগে, সেই লক্ষ্যেই এই তিন প্রজাতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, আমাদের কৃষি দপ্তর রাজ্যের আবহাওয়া/ জলবায়ুর উপযোগী চারটি নতুন ভ্যারাইটির উচ্চফলনশীল ধান উদ্ভাবন করেছে।
পুরুলিয়ার খরা প্রতিরোধ গবেষণা কেন্দ্র এবং চুঁচুড়ার ধান গবেষণা কেন্দ্রে দীর্ঘ কয়েক বছরের গবেষণার পর এই প্রজাতিগুলি তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। আমি এই…— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) January 20, 2026
অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গের বন্যাপ্রবণ এলাকার কথা মাথায় রেখে উদ্ভাবন করা হয়েছে ‘ইরাবতী’ নামের ধান। দীর্ঘ সময় জলমগ্ন থাকলেও এই ধান নষ্ট হয় না। পাশাপাশি ঝড়বৃষ্টিতে সহজে হেলে পড়ার আশঙ্কাও কম। ফলে উপকূলবর্তী ও নদীবিধৌত এলাকার কৃষকদের কাছে এই প্রজাতি বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, এই চারটি নতুন ধানকে ধরে ২০১১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকার গবেষণার মাধ্যমে মোট ২৫টি নতুন ফসলের প্রজাতি উদ্ভাবন করেছে। এর মধ্যে ১৫টিই ধানের ভ্যারাইটি। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে কৃষিকে আরও টেকসই ও লাভজনক করে তুলতে এই গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ রাজ্যের কৃষিনীতিতে নতুন দিশা দেখাচ্ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।