বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে এমনটাই জানান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরুর দিকে এগোচ্ছে কমিশন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের আইনজীবী।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 13 August 2025 17:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় (West Bengal) কি তাহলে এসআইআর (SIR) হচ্ছে? আবারও এই প্রশ্ন উঠে এল এবং তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হল কৌতূহল। সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী যা জানিয়েছেন তাতে বাড়ছে জল্পনা।
গত ৮ অগস্ট রাজ্য সরকারকে (State Govt) চিঠি দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে এসআইআর। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত শুনানিতে এমনটাই জানান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষের আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নারায়ণ। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই কীভাবে এই প্রক্রিয়া শুরুর দিকে এগোচ্ছে কমিশন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের আইনজীবী।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এখনও এসআইআর শুরু হয়নি।” তবে কমিশনের তরফে পাঠানো চিঠির প্রসঙ্গ তুলে রাজ্যের আইনজীবী বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গেও কোনও আলোচনা ছাড়াই শুরু হতে পারে নিবিড় সমীক্ষা।’’ এই প্রেক্ষিতে তাঁর সওয়াল, এর আগে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, আধার কার্ড, রেশন কার্ড ব্যবহার করা হোক। কিন্তু এখন আর তা হচ্ছে না। সেক্ষেত্রে এখন এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দেওয়া হোক। তাতে বাংলাও উপকৃত হবে।
আসলে ৮ অগস্ট নবান্নর তরফে সিইও অফিসে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, একাধিক সংবাদমাধ্যম এবং সংবাদপত্র খবর করেছে, রাজ্যের সিইও অফিসের থেকে নাকি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে বলা হয়েছে যে, রাজ্য সরকার এসআইআর-এর জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এই বিষয়ে রাজ্য সরকারকে না আগে জানানো হয়েছে, না আলোচনা করা হয়েছে। নবান্নর তরফে সিইও অফিসকে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার কথা জানান হয়েছিল।
সেই সময়ে নবান্নর পাল্টা চিঠি দিয়েছিল সিইও অফিসও। নবান্নকে তারা লিখেছিল, বিহারের এসআইআর-এর সময়ে প্যারা ১০-এ সব রাজ্যে এসআইআর হবে উল্লেখ করে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। তাই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গেও হতে পারে এসআইআর। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও ২০০২ সালের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা আপলোড করা হয়েছে। বাংলায় বিএলও-দেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সেই ইস্যুতে খোদ সিইও বলেছিলেন, তাঁরা নিজেদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে বাংলায় এসআইআর হচ্ছেই, এমনটা বলেননি। আর এখনও এই বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এই বিষয়টি নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের অফিস জানিয়েছে, এটা আদালতের ব্যাপার। এই নিয়ে সিইও কিছু জানেন না। কিছু বলার নেই।
তবে এখন সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের আইনজীবী যা বললেন, তাতে জল্পনা আরও বেড়ে গেল।