
শেষ আপডেট: 19 December 2023 14:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দ্রুত নিয়োগ দুর্নীতির মামলার নিষ্পত্তি করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেইমতো বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে চলছে শুনানি। ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগে যখন বিধ্বস্ত স্কুল সার্ভিস কমিশন, তখন মঙ্গলবার ফের একবার ডিভিশন বেঞ্চের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে এসএসসি। দুর্নীতি সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি উচ্চ আদালত। আর হাইকোর্টের ধমক খাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসেছে কমিশন। হাইকোর্টে হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য এবার নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরি পাওয়ার সমস্ত তথ্য প্রস্তুত করছে এসএসসি।
সরাসরি এসএসসি-কে সোমবার আদালত প্রশ্ন করেছিল, “কেন তথ্য দিতে লজ্জা পাচ্ছেন আধিকারিকরা?” হাইকোর্টের তোপের মুখে পড়ার পর ২৪ ঘণ্টাও পেরোয়নি। সেই তিরস্কারের পরই এবার তৎপর হয়ে উঠেছে কমিশন। এসএসসি সূত্রের খবর, প্রাথমিকভাবে একটি তথ্য ভাণ্ডার তৈরি করা হচ্ছে। যার ভিত্তিতে তৈরি হবে এসএসসি-র পরবর্তী হলফনামা। যেখানে কত জন নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাকরি পেয়েছেন এবং কোন কোন পন্থায় সেই বেনিয়ম হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকবে।
কলকাতা হাইকোর্টে একাধিকবার হলফনামা পেশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন। ইতিমধ্যে এসএসসি-র তরফে বেনিয়মে চাকরি পেয়েছেন এমন ১৮৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে কেউ যা র্যাঙ্ক করেছেন তার থেকে এগিয়ে এসেছেন, আবার কেউ মেয়াদ উত্তীর্ণ প্যানেল থেকে চাকরি পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে থেকে ১২০ জনের চাকরি ইতিমধ্যেই বাতিল করেছে এসএসসি। যদিও কিছু আইনি বাধার কারণে ৬০ জনের চাকরি বাতিল করতে পারছে না কমিশন।
সোমবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মোহাম্মদ রব্বস সিদ্দিকীর ডিভিশন বেঞ্চ কমিশনের কাছে জানতে চায়, “এসএসসি কাউকে আড়াল করার চেষ্টা করছে কী? কী লুকাতে চাইছে এসএসসি?” এদিন কমিশনের তরফে আদালতের কাছে সময় চাওয়া হয়েছে। আগামী বুধবার মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন নিয়োগ সংক্রান্ত সব তালিকা আদালতে জমা দিতে হবে কমিশনকে। আর তার জন্যই হলফনামায় সম্পূর্ণ তথ্য প্রস্তুত করছে এসএসসি। সেক্ষেত্রে আদালতে এসএসসি-র জমা দেওয়া তথ্যই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। হলফনামা আকারে জমা পড়ার পর এসএসসি আর সেই তথ্যের পরিবর্তন করতে পারবে না।