কমিশনের বক্তব্য, নথি যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে। যদি আরও কোনও অযোগ্য প্রার্থীর নাম কারও নজরে আসে, তা কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 29 November 2025 07:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি (SSC) মামলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, একজন ‘দাগি’ বা টেন্টেড প্রার্থীকেও পরীক্ষায় বসতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, বহু ‘অযোগ্য’ নাম ঢুকে পড়েছে তালিকায় (identified 269 ineligible)। আর এবার নথি যাচাইয়ের সময় ২৬৯ জন ‘দাগি’ প্রার্থীকে চিহ্নিত করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি জানায়, নথি যাচাইয়ের সময়ই ধরা পড়েছে এই বিপুল সংখ্যক অযোগ্য প্রার্থীর উপস্থিতি। কমিশন জানিয়েছে, শুধু শিক্ষক ও শিক্ষিকা নন, এই তালিকায় এমন অনেক শিক্ষাকর্মীও আছেন, যাঁদের আগেই ‘দাগি’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। অথচ তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণও হয়েছেন এবং নথি যাচাইয়ের আবেদন করেছিলেন। কমিশন তাঁদের সবাইকে বাদ দিয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, নথি যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে। যদি আরও কোনও অযোগ্য প্রার্থীর নাম কারও নজরে আসে, তা কমিশনকে জানাতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
স্মরণীয়, ২০১৬ সালের নিয়োগ দুর্নীতির ঘটনায় সমগ্র প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে এক ধাক্কায় চাকরি হারিয়েছিলেন প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী। আদালতের নির্দেশে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার পাশাপাশি বলা হয়েছিল—যাঁরা ‘দাগি’, তাঁরা কোনও ভাবেই নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি তাঁদের ফেরত দিতে হবে চাকরির মেয়াদের বেতনও।
তারই প্রেক্ষিতে শুরু হয়েছে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া (new appointments)। কিন্তু পরীক্ষার পর প্রকাশিত মেধাতালিকা ঘিরেই ফের দেখা দিল বিভ্রাট (Recruitment corruption)।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির মোট ৩৫টি বিষয়ের মধ্যে ৩১টির নথি যাচাই শুক্রবার পর্যন্ত শেষ হয়েছে। বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে ইন্টারভিউ চলছে। যে কয়েকটি বিষয় এখনও বাকি, সেখানেও আরও ‘দাগি’ প্রার্থী ধরা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বাদ যাওয়া প্রার্থীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে নথি যাচাই। তার মধ্যেই স্পষ্ট হবে, নতুন নিয়োগে আরও 'দাগি' রয়েছে কিনা।