এমনকি এক বিধায়কের মেয়ের নামও রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। আবার তৃণমূলের এক পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ছেলের নামও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 August 2025 11:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে শনিবার অযোগ্যদের তালিকা (SSC tainted list) প্রকাশ করার কথা স্কুল সার্ভিস কমিশনের (SSC)। তার আগেই সেই তালিকা ফাঁস হয়ে গেল। তাতে জানা যাচ্ছে, ওই অযোগ্যদের তালিকায় তৃণমূলের (TMC) অঞ্চল সভাপতির নাম রয়েছে। এমনকি এক বিধায়কের মেয়ের নামও রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। আবার তৃণমূলের এক পূর্ত কর্মাধ্যক্ষের ছেলের নামও রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
জানা গিয়েছে, নবম-দশমে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দাগির প্রার্থীর সংখ্যা ৯৯৩ জন। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দাগি প্রার্থীর তালিকা ৮১০ জন। এর মধ্যে নবম দশমে ওএমআর শিট (OMR) জালিয়াতি করে চাকরি পেয়েছেন ৮০৮ জন। এছাড়া rank জাম্প করে চাকরি পেয়েছেন বহু।
হিসেব মতো অযোগ্যদের তালিকায় প্রায় ১ হাজার ৯০০ জনের নাম রয়েছে। যা শনিবার দুপুরে সরকারি ভাবে এসএসসি প্রকাশ করবে বলে জানা যাচ্ছে। তবে সেই তালিকায় সংবাদমাধ্যমে আগাম ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সকাল থেকেই হুলস্থূল পড়ে গেছে রাজ্যে।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এদিন বলেন, ‘এ হল স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির চরমতম নিদর্শন’। তাঁর কথায়, প্রকৃতপক্ষে অযোগ্যদের তালিকায় এর থেকে নিশ্চয়ই অনেক বেশি। সরকার চেপে যাচ্ছে। তবে এই অনাচার বেশিদিন চেপে রাখা যাবে না। শাস্তি হবেই।
আবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উচিত এক্ষুণি পদত্যাগ করে। যারা রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম ও যুব সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলে তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা হওয়া উচিত। বাংলা এবার বিচার চায়।”
অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের জন্য শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়। শীর্ষ আদালত জানিয়ে দেয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। শুধু তা নয়, অযোগ্যরা কেউ যেন নতুন করে পরীক্ষায় বসতে না পারে সে ব্যাপারে হুঁশিয়ার করে দেয় আদালত। আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। তার আগে বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, অযোগ্য কেউ যেন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই হবে। আদালতের পূর্ব নির্দেশ অনুযায়ী, এর ব্যত্যয় হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যাঁরা অনলাইনে আবেদন জমা দিতে পারবেন না, তাঁরা নথির হার্ড কপি জমা দিতে পারবেন।
‘যোগ্য’ অথচ চাকরিহারা প্রার্থীদের তরফে আলাদা পরীক্ষার দাবি তোলা হয়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তাঁদের যুক্তি, প্রায় এক দশক আগে তাঁরা পরীক্ষা দিয়ে যোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন। নতুন প্রজন্মের পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে একই মঞ্চে প্রতিযোগিতায় নামলে তাঁদের সুযোগ কমবে। তাই তাঁদের জন্য পৃথক পরীক্ষা প্রয়োজন। তবে বিচারপতি সঞ্জয় কুমার সেই আর্জি নাকচ করে দেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, যোগ্য প্রার্থীরা বয়সে ছাড় পাচ্ছেনই, তার সঙ্গে রয়েছে অভিজ্ঞতার সুবিধা। তাই পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই এবং একসঙ্গেই অনুষ্ঠিত হবে।