কেরলের কোচিতে ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের ক্যান্টিনে গরুর মাংস পরিবেশনে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে কর্মীদের অভিনব বিক্ষোভ।

কর্মীদের অভিনব বিক্ষোভ
শেষ আপডেট: 30 August 2025 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেরলের কোচিতে ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের (Canara Bank) এক শাখায় গরুর মাংসের (Beef) উপর নিষেধাজ্ঞা ঘিরে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, নতুন দায়িত্ব পাওয়া এক আঞ্চলিক ম্যানেজার ক্যান্টিনে গরুর মাংস পরিবেশনে বাধা দেন। এর প্রতিবাদে ব্যাঙ্ক কর্মীরা রীতিমতো ক্যান্টিনের বাইরে গরুর মাংস ও পরোটা পরিবেশন করে বিক্ষোভ দেখান।
ব্যাঙ্ক এমপ্লয়িজ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া (BEFI)-র নেতৃত্বে কর্মীরা জানায়, ম্যানেজার যে মানসিক চাপ দিচ্ছেন ও অপমানজনক আচরণ করছেন বিরুদ্ধে আগেই আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গরুর মাংস নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসার পর মূল দাবি বদলে গিয়ে আন্দোলন আরও জোরদার হয়।
আসলে কেরলের খাদ্য সংস্কৃতিতে মালাবার পরোটা ও বিফ ফ্রাই এক বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। নরম, স্তরে স্তরে তৈরি পরোটা আর মশলাদার ভাজা বিফ—এই যুগলবন্দি শুধু অফিস ক্যান্টিনেই নয়, হোটেল, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে উৎসবের টেবিল পর্যন্ত সমানভাবে জনপ্রিয়। স্থানীয়দের মতে, মালাবার পরোটা আর বিফ ফ্রাই শুধু খাবার নয়, কেরলের সাংস্কৃতিক পরিচয়েরও অঙ্গ। ফলে এই পদকে কেন্দ্র করে যেকোনও নিষেধাজ্ঞা মানুষের আবেগে আঘাত হানে।
BEFI নেতা এস এস অনিল বলেন, “এই ব্যাঙ্ক সংবিধানের নির্দেশিকা মেনেই চলে। খাদ্যাভ্যাস একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা কাউকে গরুর মাংস খেতে বাধ্য করছি না। কিন্তু আমাদের খাওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। তাই প্রতিবাদে আমরা গরুর মাংস খেয়ে জানালাম, ব্যক্তিস্বাধীনতার সঙ্গে আপস চলবে না।”
এই আন্দোলনে যোগ দেন কেরলের রাজনৈতিক মহলও। বাম সমর্থিত স্বতন্ত্র বিধায়ক কে টি জলিল কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে বলেন,“কেরলে কোনওভাবেই সঙ্ঘ পরিবার বা হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা চাপানো যাবে না। কী খাব, কী পরব, কী ভাবব—এ সব ঠিক করার অধিকার কোনও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নেই।”
তিনি ফেসবুকে লেখেন, “এই মাটির রঙ লাল, এই মাটির হৃদয় লাল। যেখানে লাল পতাকা উড়ে, সেখানেই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ে প্রতিবাদ করা যায়। ঐক্যবদ্ধ কমরেডরা কখনও গেরুয়া পতাকা তুলে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করতে দেবে না।”
উল্লেখযোগ্য, এর আগে ২০১৭ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের পশু বিক্রি সংক্রান্ত নির্দেশিকার পরও কেরলে একাধিকবার ‘বিফ ফেস্ট’ আয়োজন করে প্রতিবাদ হয়েছিল। সেদিক থেকে দেখলে, সাম্প্রতিক এই ঘটনায় কেরলে ব্যক্তিস্বাধীনতা রক্ষার লড়াই ফের নতুন করে সামনে এল।