সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে শুক্রবার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) প্রকাশ করেছে।

বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 13:54
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ মেনে শুক্রবার নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ঘোষণা মেনে চাকরিহারা শিক্ষকদের (SSC Deprived Teacher) বয়সের ছাড়ের (Age relaxation) পাশাপাশি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার বিষয়টিকেও পরীক্ষায় আলাদা করে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন নিয়োগ দুর্নীতি মামলার অন্যতম আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য (Bikas Ranjan Bhattacharya)।
এদিন দ্য ওয়ালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "এই বিজ্ঞপ্তি এ কারণেই জারি করা হয়েছে যাতে আরও কোনওরকম নিয়োগ না হয়। রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে টাকার বিনিময়ে যাদের চাকরি দিয়েছে তাদের চাকরিটাকেই পুনর্বহাল করার একটা পরিকল্পনা। বিজ্ঞপ্তিতে যে সব রুলসের কথা বলা হয়েছেে, সেগুলো আদালতে বেআইনি বলে ঘোষিত হবে। ফলে নিয়োগ হবে না। এটাই মুখ্যমন্ত্রীর মূল উদ্দেশ্য।"
নিজের দাবির সপক্ষে বিকাশবাবু এও বলেন, "আসলে বিজ্ঞাপন, মেলা, খেলা, পুজো, ঈদ, পুরোহিত ভাতা, ইমাম ভাতা দিয়ে সরকারি কোষাগার শূন্য করে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ওর কোনও ইচ্ছে নেই স্থায়ী শিক্ষক নিয়োগের। স্কুল শিক্ষক নিয়োগ করার মতো স্বচ্ছ দৃষ্টিভঙ্গি এই সরকারের নেই। এই যে অভিজ্ঞতার নিরিখে নিয়োগের কথা বলা হয়েছে এটা তো উদ্দেশ্য নিয়ে। কারণ, জানে এই বিজ্ঞপ্তিতে নিয়েও আদালতে মামলা হবে, নিয়োগ করতে হবে না।"
২০১৬ সালের নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে যে মামলা দায়ের হয়েছিল, তার অন্যতম আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আদালত ২০১৬ সালের পুরো প্যানেল বাতিল করার পর বিভিন্ন সময়ে কখনও সরাসরি কখনও প্রত্যক্ষভাবে বিকাশবাবুদেরকেই দায়ী করেছে রাজ্যের শাসকদল। সরকারের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ফের মামলা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বিকাশবাবু বলেন, "আমরা কেন, যে ছেলেমেয়েগুলো রাস্তায় বসে আছে, যাদের নিয়োগ বাতিল হয়ে গেল, তাঁরাই আদালতে যাবে।"
কোন পথে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব? বিকাশরঞ্জনের সাফ কথা, "তৃণমূলের নেতারা যাদের থেকে টাকা নিয়ে নিয়োগপত্র দিয়েছেন তাঁদের নাম সামনে আনুক। সরকার যোগ্য ও অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করুক। তারপর স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু হলেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।"
বিকাশরঞ্জনের অভিযোগ, "আসলে রাজ্য সরকার বেআইনি ভাবে টাকা রোজগারের পথটা খোলা রাখতে চাইছে। তাই ইন্টারভিউতে বেশি নম্বর রাখা হয়েছে। এর অর্থ যারা বেশি টাকা দেবেন তাঁরা নিয়োগ পাবেন। এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার দুর্নীতিতে প্রশ্রয় দিচ্ছে।"
বয়সের ছাড়়ের বিষয়েও সরকারকে বিঁধে বিকাশ বলেন, বয়সের ছাড়ের কথা উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল না, কারণ ২০১৬ সালের নিয়োগ ২০১৬ সালের নিয়মেই হবে। আদালতের নির্দেশেও সেকথা বলা আছে।