নতুন করে দু-দফায় যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাতেও দুর্নীতি হতে পারে বলে সন্দেহ করেছেন অনেকে। বহু নতুন চাকরিপ্রার্থীর বক্তব্য, দশ বছর পর নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে অথচ নতুন প্রার্থীদের পূর্ণ নম্বর পেলেও ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 19:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য এসএসসি পরীক্ষা (SSC Exam) অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর থেকেই আলোচনা চলছিল যে কবে পরীক্ষার ফলপ্রকাশ (SSC Exam Result) হতে পারে। সেই দিনক্ষণ মোটামুটিভাবে সামনে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া ডেডলাইনের মধ্যেই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে তৎপর এসএসসি (SSC)। সেই প্রেক্ষিতে ডিসেম্বরের মধ্যেই নিয়োগ সম্পূর্ণ করতে হবে। তাই এসএসসি নভেম্বরেই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে চাইছে। সূত্রের খবর, আগামী ৭ নভেম্বর বা তার মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ হতে পারে এসএসসি পরীক্ষার।
মোট ৫ লক্ষ ৬৬ হাজার জন এই পরীক্ষায় বসেছিলেন। এর মধ্যে নবম-দশম শ্রেণির জন্য পরীক্ষায় বসেছিলেন ২ লক্ষ ৯৩ হাজার ১৯২ জন। আর একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য পরীক্ষা দিলেন ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৪৯৭ জন। সকলেই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ফলপ্রকাশের। মোট ৩৫ হাজার ৭২৬টি শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে দু'দফায় যে পরীক্ষা হয়েছিল তা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে পুরনো চাকরিপ্রার্থীদের জন্য যে ১০ নম্বরের নিয়ম - তা মেনে নেননি নতুন চাকরিপ্রার্থীরা। সে সব নিয়েই মামলা হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। বুধবার সেই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানায়, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরই এই নিয়ে শুনানি হবে।
বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ বুধবার জানিয়েছে, এসএসসি-র পরীক্ষার ফলাফল নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই বেরতে পারে। তাই তার পর সব অভিযোগ শোনা হবে। আদালত এও স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও অযোগ্য বা ‘দাগি’ প্রার্থীকে এই পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। সিবিআই রিপোর্টের (CBI Report) ভিত্তিতেই তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তাই এখনই আর নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন অভিযোগ শোনা হবে না। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, এসএসসি সংক্রান্ত সব আবেদন ও মামলা আগামী ২৪ নভেম্বর একসঙ্গে শুনানি করা হবে।
আসলে নতুন করে দু-দফায় যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে তাতেও দুর্নীতি হতে পারে বলে সন্দেহ করেছেন অনেকে। বহু নতুন চাকরিপ্রার্থীর বক্তব্য, দশ বছর পর নিয়োগের পরীক্ষা হয়েছে অথচ নতুন প্রার্থীদের পূর্ণ নম্বর পেলেও ডাক পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ, ইন-সার্ভিস প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় ৩১ হাজার শিক্ষককে ইতিমধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ফ্রেশার চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, এই নিয়ম তাঁদের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, যাঁরা কয়েক বছর শিক্ষকতা করার পর ফের পরীক্ষায় বসছেন, তাঁদের দাবি, বছরের পর বছর চাকরি করার পরে নতুনদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে র্যাঙ্ক করা কার্যত অসম্ভব। মনে করা হচ্ছে, ফলপ্রকাশের দিন নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হতে পারে।