জইশ প্রধান পাকিস্তানের প্রত্যেক জেলায় ‘জমাত উল-মুমিনাত’-এর শাখা গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন। প্রতিটি শাখার নেতৃত্বে থাকবেন এক ‘মুনতাজিমা’ - যিনি নারীদের নিয়োগ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।

মাসুদ আজহার
শেষ আপডেট: 29 October 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সেনাবাহিনীতে (Indian Army) নারীদের যোগদান কি ভয় ধরাচ্ছে জঙ্গি সংগঠনগুলির (Terror Groups)? জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish e Mohammad) প্রধান মাসুদ আজহারের এক অডিও বার্তা (Audio Message) সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। তাতে তিনি ভারতের নাম নিয়েই এই ইস্যুতে বার্তা দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন, ‘জমাত উল-মুমিনাত’ নামে যে নতুন নারীবাহিনী গড়ে তোলা হচ্ছে, তারা ভারতীয় সেনায় থাকা নারী সদস্যদের মোকাবিলা করবে।
২১ মিনিটের এক অডিও বার্তায় আজহার বলেন, “জইশের শত্রুরা হিন্দু মহিলাদের সেনাবাহিনীতে (Woman Jawan) ঢুকিয়েছে। তারা আমাদের বিরুদ্ধে নারী সাংবাদিকও (Woman Journalists) ব্যবহার করছে। তাই নারীদের একত্র করে আমরা পালটা লড়াইয়ে নামব।” ওই বক্তৃতাটি পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুরে মার্কাজ উসমান-ও-আলি ঘাঁটিতে রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আজহার জানিয়েছেন, এই নতুন নারী শাখার সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে পুরুষ জঙ্গিদের মতোই। যেখানে পুরুষ সদস্যরা ‘দাওরা-ই-তারবিয়ত’ নামে ১৫ দিনের একটি মৌলবাদী প্রশিক্ষণ কোর্স করে, সেখানে নারীরা ‘দাওরা-ই-তস্কিয়া’ নামে প্রাথমিক কোর্সে অংশ নেবে। প্রশিক্ষণ হবে মার্কাজ উসমান-ও-আলিতে। প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় পর্যায়ে থাকবে ‘দাওরা আয়াত-উন-নিসাহ’ কোর্স, যেখানে নারীদের শেখানো হবে কীভাবে ধর্মীয় গ্রন্থে ‘জিহাদের নির্দেশ’ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
জইশ প্রধান পাকিস্তানের প্রত্যেক জেলায় ‘জমাত উল-মুমিনাত’-এর শাখা গঠনের কথাও ঘোষণা করেছেন। প্রতিটি শাখার নেতৃত্বে থাকবেন এক ‘মুনতাজিমা’ - যিনি নারীদের নিয়োগ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন।
এই নারীবাহিনীর জন্য কঠোর নিয়মও বেঁধে দিয়েছেন জইশ প্রধান। সদস্যরা স্বামী বা নিকট আত্মীয় ছাড়া অন্য কোনও পুরুষের সঙ্গে ফোন বা মেসেঞ্জারে কথা বলতে পারবেন না।
আগের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই নতুন বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে আজহারের বোন সাদিয়া আজহারকে। সংগঠনের নেতৃত্বে রয়েছেন আরও দুই নারী - আজহারের অপর বোন সামাইরা আজহার এবং পুলওয়ামা হামলার মূল চক্রী উমর ফারুকের স্ত্রী আফিরা ফারুক।
গত ৮ অক্টোবর মাসুদ আজহার এই নারী ইউনিট গঠনের ঘোষণা করেছিলেন। এরপর ১৯ অক্টোবর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) অনুষ্ঠিত হয় ‘দুখতারান-এ-ইসলাম’ নামের এক সভা, যেখানে মহিলাদের সংগঠনে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এই অনলাইন কোর্সের মাধ্যমে জইশ মহিলাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ ও নতুন সদস্য নিয়োগের কাজ চালাবে। সূত্রের খবর, আগামী ৮ নভেম্বর থেকেই শুরু হবে এই নিয়োগ অভিযান।
প্রতি অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৫০০ পাকিস্তানি রুপি (প্রায় ১৫৬ টাকা)। সে দেশে নারীদের একা বাইরে যাওয়া অনুচিত মনে করা হয়। তাই এই টাকা অনলাইনেই সংগ্রহ করা হচ্ছে।